বর্তমানে কারখানায় যে পরিমাণ কাঁচামাল মজুদ আছে, তা দিয়ে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন চালানো সম্ভব। এরপর নতুন সরবরাহ না পেলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। কারখানাটির উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) রবিউল আলম খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে সারের চাহিদা গিয়ে দাঁড়াবে ৬৭ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টনে। এর মধ্যে ডিএপির চাহিদা ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭০০ টন। দেশীয় কারখানা ডিএপি ফার্টিলাইজার কম্পানি লিমিটেডের বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা রয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার টন। চাহিদার বাকিটা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়ে থাকে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কারখানাটির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এক লাখ টন ডিএপি সার উৎপাদনের।
এর আগে গ্যাস সংকটের কারণে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে অবস্থিত শাহজালাল ফার্টিলাইজার কম্পানি লিমিটেডটি চালু রেখে বহুজাতিক কাফকোসহ পাঁচটি ইউরিয়া কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন থেকে বারবার কারখানাগুলো চালু করতে গ্যাস সরবরাহ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে। তবে সরকার সবগুলো কারখানা চালু না করে রেশনিং পদ্ধতিতে ৩ এপ্রিল থেকে ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানাটি চালু করে শাহজালাল কারখানাটি বন্ধ করে দেয়। শাহজালালের তুলনায় দৈনিক দেড় হাজার টন বেশি উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ঘোড়াশাল-পলাশ কারখানাটির।
কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বৈশ্বিক সারের সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় আমদানিনির্ভরতা বিপাকে ফেলতে পারে। সেজন্য যেকোনো উপায়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা সবসময় বলে আসছি দেশের সবগুলো সার কারখানা চালু রাখতে। বৈশ্বিক বাজারে সারের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সময়মতো পাওয়া ও পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ সময়ে দেশে উৎপাদন বাড়ানোর চেয়ে ভালো বিকল্প কিছু হতে পারে না। সেজন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করে এসব কারখানা চালু রাখতে হবে। সিইউএফএল এবং কাফকোর অ্যামোনিয়ার ওপর ডিএপি সার কারখানাটি নির্ভরশীল। সেজন্য আমি মনে করি দুটি ইউরিয়া কারখানার মধ্যে অন্তত একটি চালু রাখতেই হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সামনে আউশ ও আমনের মৌসুম। এরপর শীতকালীন সবজির মৌসুম শুরু হবে। সেজন্য এখন থেকেই বড় ধরনের পরিকল্পনা না করলে সবগুলো ফসলের সময়ই সাফার করতে হবে। এমনটি হলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে এবং খাদ্যনিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।’