ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠিত এই এক দিনের আলোচনাকে ইতিবাচক বলে অভিহিত করেছে তেহরানও। ইরান জানিয়েছে, গঠনমূলক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরো বৈঠক চালিয়ে যেতে তারা আগ্রহী। আলোচনা মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে জানিয়েছে উভয় পক্ষ।বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় একটি মার্কিন নৌবহর ও বিমানবাহী রণতরী অবস্থান করলেও মাস্কাটে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদল প্রকাশ্যে সরাসরি মুখোমুখি হয়নি।
গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর এই দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা।ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান নিয়ে আমাদের আলোচনা খুব ভালো হয়েছে।” তিনি আরও জানান, “আগামী সপ্তাহের শুরুতেই আবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’
মাস্কাটে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বদানকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, আলোচনা একান্তভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরেই হয়েছে।পশ্চিমা দেশগুলো এই কর্মসূচিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও তেহরান জোর দিয়ে বলছে, এটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার বিষয়ে তারা অনড়।যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জ্যারেড কুশনার। তারা ইরানের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনের বিষয়গুলো আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন।
তিনি এটিকে একটি ভালো সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যতে পারস্পরিক যুক্তি ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে আরাকচি আশা প্রকাশ করেন, ওয়াশিংটন যেন হুমকি ও চাপের নীতি পরিহার করে, যাতে আলোচনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।