তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে কিউবায় ফ্লাইট পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে কানাডার একাধিক বিমান সংস্থা। ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকির প্রেক্ষাপটে দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে জেট ফুয়েলের মজুদ দ্রুত কমে আসায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার কানাডা সোমবার জানায়, জ্বালানির অভাবের কারণে তারা কিউবাগামী ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। একই ধরনের ঘোষণা দিয়েছে এয়ার ট্রান্স্যাট ও ওয়েস্টজেটও।
এয়ার ট্রান্স্যাট জানায়, দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং কিউবার গন্তব্য বিমানবন্দরগুলোতে জ্বালানি ঘাটতির আশঙ্কায় তারা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে ১ মে ২০২৬ থেকে পুনরায় ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি বর্তমানে কিউবায় অবস্থানরত যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে ওয়েস্টজেট জানিয়েছে, তারা যাত্রীবিহীন বিমান কিউবায় পাঠাবে এবং ফেরার পথে রিফুয়েলিং এড়াতে অতিরিক্ত জ্বালানি বহন করবে।
এতে স্থানীয় জ্বালানি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং সময়ও সাশ্রয় হবে।কিউবা ১৯৬২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটি বিদ্যুৎ বিভ্রাট, জ্বালানি, ওষুধ ও খাদ্য সংকটসহ গভীর অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুমকি দেন।
তিনি আরো বলেন, যারা কিউবাকে তেল সরবরাহ করবে, তাদের ‘পতনের জন্য প্রস্তুত’থাকতে হবে।
কিউবা দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নির্ভরশীল। তবে ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সাম্প্রতিক এক মার্কিন সামরিক অভিযানে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুতি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। পাশাপাশি মার্কিন শুল্ক হুমকির কারণে মেক্সিকো থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..