দাঁতের শিকড়ের সংক্রমণের ব্যাকটেরিয়া রক্তে প্রবেশ করে শরীরজুড়ে প্রদাহ বাড়াতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের প্রদাহ শুধু দাঁত নয়, হৃদপিণ্ড ও রক্তনালীসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।চিকিৎসকদের মতে, দাঁত বা মাড়ির সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ না করলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।ব্যাকটেরিয়া রক্তনালির ওপর চাপ ফেলতে পারে, ফলে হৃদযন্ত্রকে বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়। যাদের উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা পুরনো হৃদরোগ আছে, তাদের অবস্থাকে এটি আরো জটিল করে তুলতে পারে।
দাঁতের সংক্রমণের কারণে শরীরের ইনসুলিন কার্যকারিতা দুর্বল হয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ফলে নিয়ন্ত্রণে থাকা ডায়াবেটিসও হঠাৎ খারাপ হতে পারে এবং রোগীর শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আরো চাপের মুখে পড়ে।অনেকে ভাবেন খাদ্যাভ্যাসের কারণে সুগার বেড়েছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে লুকিয়ে থাকা কারণ দাঁতের সংক্রমণই।
গবেষণা বলছে, যেসব রোগী দাঁতের শিকড়ের সংক্রমণ দীর্ঘদিন অবহেলা করেন, তাদের শরীরে প্রদাহ বেড়ে ক্লান্তি, শরীর ব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। সংক্রমণ বাড়লে মাড়ি ফুলে ওঠা, পুঁজ জমা ও তীব্র ব্যথা শুরু হয়।
রুট ক্যানেল প্রমাণিত সমাধান
দাঁতের শিকড় পরিষ্কার করে সংক্রমণ দূর করার চিকিৎসা রুট ক্যানেল এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। এতে ব্যথা কমে, দাঁত বাঁচে এবং শরীরের প্রদাহের মাত্রাও কমতে দেখা যায়।গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসার পর হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তে শর্করা আরো স্থিতিশীল থাকে।
কখনো অবহেলা নয়
চিকিৎসকদের পরামর্শ, দাঁতের ব্যথাকে সাধারণ ভেবে উপেক্ষা করা উচিত নয়। দাঁত শরীরেরই অংশ, তাই দাঁতে ব্যথা মানে শরীরের গভীরে কোনো সংকেত কাজ করছে।
যে উপসর্গগুলো গুরুত্ব সহকারে দেখার প্রয়োজন—
এগুলো উপেক্ষা করলে দাঁত তোলার প্রয়োজন হতে পারে, এমনকি হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
যা করা জরুরি
দাঁতের ব্যথা কখনো অবহেলা করা ঠিক নয়। দাঁতের একটি ছোট প্রদাহও পুরো শরীরকে প্রভাবিত করতে পারে। এটাই বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।