রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে সংঘটিত মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় মায়ের পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ খান রাইয়ানের মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্ত করা হয়েছে। এমন খবরে ক্যাম্পাসজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভোর ৫টায় তার মরদেহ শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্য ও সহপাঠীরা। দুর্ঘটনার সময় একই বাসে রাইয়ানের মা, বড় বোন ও ভাগ্নে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) তার মা রেহেনা আক্তার (৫৯) এবং পরবর্তী সময় রাইয়ানের ভাগ্নের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় বড় বোন ডাক্তার নুসরাত জাহান খানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনার পর থেকে রাইয়ান ও তার ভাগ্নে দীর্ঘ সময় নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তী সময় ভাগ্নের মরদেহ উদ্ধার করা গেলেও রাইয়ানের মরদেহ পাওয়া যায়নি। আজ ভোর ৫টায় রাজবাড়ীর সদর হাসপাতালে তার লাশ শনাক্ত করে নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী ডিবেট অ্যাসোসিয়েশন এর জয়েন্ট সেক্রেটারি নিলয় সাহা নীল।
রাজবাড়ি ডিবেট অ্যাসোসিয়েশন এর জয়েন্ট সেক্রেটারি নিলয় সাহা নীল জানান, ‘আমার বন্ধু রাইয়ান ছিলো খুবই সাংগঠনিক একজন মানুষ। তাকে দেশের অনেকেই চিনতো তার সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের কারণে। তুখর মেধাবি বন্ধু রাইয়ানের মৃত্যুর কারণ সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় গাফিলতি। রাষ্ট্র এটার কোনো সমাধান দিতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।এটা নিয়ে দুই দিন কথা হবে পরে সব আবার আগের মতোই চলবে এই দেশে।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো শফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের ছাত্র রাইয়ান ছিলো ডিপার্টমেন্ট এর জন্য নিবেদিত প্রাণ। যেকোনো প্রয়োজনে ও সবার আগে ছুটে আসতো। তার এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। অর্থনীতি বিভাগ আজ মর্মাহত তার জন্য।
আল্লাহ তার এবং তার মা, ভাগ্নে কে বেহেশত নসিব করুক।জানা যায়, মা, বড় বোন, ভাগ্নিকে নিয়ে ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন আহনাফ রাইয়ান। তিনি রাজবাড়ীর ভবানীপুর গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে। আহনাফ রাইয়ান রাজবাড়ী ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি জাবি ছাত্রকল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন। স্কুলজীবন থেকেই তিনি বিতর্ক চর্চা করতেন। জাবিতেও বিতর্ক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর খবরে জাবিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..