খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপিতে প্রার্থিতার লড়াই এখন তুঙ্গে।সম্ভাব্য প্রার্থীরা কখনো রাজধানী, কখনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটছেন। হাইকমান্ডের নজরে আসতে চলাচ্ছেন প্রাণপণ চেষ্টা। নেতাকর্মীদের মন জয় করতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে চায়ের দোকান থেকে দলীয় কার্যালয়—সবখানেই একই কথা—কে হচ্ছেন ধানের শীষের প্রার্থী।এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থিতার লড়াইয়ে রয়েছেন আলহাজ্জ্ব অ্যাড. শহীদ মোহাম্মাদ ইকবাল হোসেন, ইফতেখার সেলিম অগ্নি, আসাদুজ্জামান মিন্টু, অ্যাড. এম এ গফুর, জাহানারা সিদ্দিকী, মুনির আহম্মেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, এ বি এম গোলাম মোস্তফা তাজ ও প্রয়াত মো. মুসার ছেলে কামরুজ্জামান শাহিন। ইতোমধ্যে ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকা মতবিনিময়সভায় উল্লেখিত আট মনোনয়নপ্রত্যাশী অংশ নেন। এদিকে একক প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাড. গাজী এনামুল হক। দলীয় একক প্রার্থী ঘোষণা করায় তিনি নির্বাচনী এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছেন।
সূত্র মতে, ধানের শীষ পেতে জোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্জ্ব অ্যাড. শহীদ মোহাম্মাদ ইকবাল হোসেন। এর আগে দুইবার পৌর মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। আওয়ামী লীগের আমলে মামলা-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। এলাকার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগও বাড়িয়েছেন। অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন দলীয় ও সামাজিক কর্মসূচিতে।
শহীদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমি ইতোপূর্বে নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়েছিলাম, এবারের নির্বাচনেও দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো। তিনি বলেন, শত প্রতিকূল পরিবেশেও সব সময় নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম, আছি ও থাকব।’
অন্যদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসাবেই পরিচিত মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু। তিনি বলেন, হাইকমান্ড বলেছে কাজ করতে, আমি কাজ করছি, ধানের শীষের জন্য কাজ করছি। মনোনয়নের ক্ষেত্রেও আমি আশাবাদী। তবে ধানের শীষ যিনিই পাবেন, তাঁকেই বিজয়ী করতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।
মিন্টু বলেন, ‘দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। করোনা মহামারির সময় মনিরামপুর পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়নের মানুষের পাশে ছিলাম। করোনা আক্রান্ত রোগীর পাশে থেকে পরোক্ষ-প্রত্যক্ষভাবে সেবা দিয়ে এসেছি। তারুণ্যের যে জাগরণ সারা বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে, তার ধারাবাহিকতায় দল তরুণদের মূল্যায়ন করবে বলে আশা করি।’
আরেক শক্ত মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক ছাত্রনেতা এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখার সেলিম অগ্নি। করোনাকালে মনিরামপুরবাসীর পাশে ছিলেন তিনি।
অগ্নি বলেন, ‘আমি ছাত্রজীবনে জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। সেই থেকে রাজনীতি মানে আমার কাছে জনসেবা। ২০১৪ সালে ঢাকা থেকে গুম হয়ে বহু চেষ্টায় প্রাণে বেঁচে ফিরি। সংগঠনের কর্মসূচি পালন শেষে খুলনা থেকে ফেরার সময় ফ্যাসিস্টদের হামলার শিকার হই।’ তিনি বলেন, দলীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে কথা হয়েছে। কোন চাঁদাবাজি, ধান্ধাবাজি, লুটপাট, দখলের কোনো অপবাদ আমার নাই। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। আমি প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলে সমাজে সর্বস্তরে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব।
যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামের কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী গাজী এনামুল হক। দলের প্রার্থী হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম ছাড়াও প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সভা-সেমিনার ও গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন তিনি।
মুফতি রশিদ বিন ওয়াক্কাস জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। তিনি জোটের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তাঁর বাবা মুফতি ওয়াক্কাস ২০০১ সাল ও ২০০৮ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হন। এবার তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হবেন বলে আশাবাদী। গত ৫ জুলাই মনিরামপুর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সংগঠনের সমাবেশে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম তাঁকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ঘোষণা করে গেছেন। ওই ঘোষণার পরই জনগণের মধ্যে তিনিও আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছেন।
মুফতি রশিদ বিন ওয়াক্কাস বলেন, ‘ইতোমধ্যে নির্বাচনী গণসংযোগকালে সাধারণ মানুষের থেকে আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের ভালবাসায় এগিয়ে যাবো।’
যশোর ৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলের মনিরামপুর উপজেলা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন টিপু মাস্টারকে এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি। জয়নাল আবেদীন টিপু বলেন, ‘নেতা নয়, খাদেম হিসেবে কাজ করতে চাই। আমি নির্বাচিত হলে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ, দখলমুক্ত নিরাপদ জনপদ গড়ে তুলবো। বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচনী গণসংযোগ আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আশাকরি এ আসনে আমরা বিজয়ী হবো।
এদিকে, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী দলের মনিরামপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা তবিবর রহমানও কর্মী-সমর্থক নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়া, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)’র একক প্রার্থী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য, যশোর জেলা কমিটির সভাপতি এবং খুলনা বিভাগীয় প্রধান সমন্বয়ক নিজামদ্দিন অমিত। তিনি এই আসন থেকে দলের প্রার্থী হিসেবে ২০১৮ সালের নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন।
নিজামদ্দিন অমিত বলেন, ‘সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমার সবসময় যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া নিয়মিত সভা-সমাবেশ করে চলেছি। অন্যদিকে, এবি পার্টি যশোর ৫ আসনে মনোনায়ন পেয়েছেন মো. হাবিবুর রহমান। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক মেজর মোস্তফা বনি। তারাও সীমিত পরিসরে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।