এদিকে হুট করে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় লাইটার জাহাজের চাহিদা অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো–অর্ডিনেশন সেলের (ডব্লিউটিসিসি) আওতায় আগে যেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০টি লাইটার জাহাজ ছিল, বর্তমানে তা কমে ১ হাজার ২২টিতে নেমে এসেছে। ফলে সংকট আরো প্রকট হয়েছে।
আমদানিকারকদের পক্ষে লাইটার জাহাজ বরাদ্দ নেওয়া পরিবহন এজেন্টদের একজন এমএসটি মেরিন এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘যেসব আমদানিকারকের গুদাম নেই, তারা লাইটার জাহাজ থেকে দ্রুত পণ্য খালাস করতে পারছেন না। এতে নতুন জাহাজ পরিবহনের জন্য বরাদ্দ পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ ঘাটে সনাতন পদ্ধতিতে পণ্য খালাস হওয়ায় সময়ও বেশি লাগছে’।
অন্যদিকে আমদানি পণ্যের সরবরাহব্যবস্থায় তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বড় শিল্পগ্রুপগুলো। কয়েকটি গ্রুপের নিজস্ব লাইটার জাহাজ রয়েছে। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, টি কে গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি গ্রুপ ও আকিজ রিসোর্স গ্রুপের নিজস্ব ঘাটে ক্রেনের মাধ্যমে পণ্য দ্রুত খালাস করা যায়। ফলে এসব গ্রুপের লাইটার জাহাজ এক–দুই দিনের মধ্যেই খালি করা সম্ভব হয়।
তবে ঘাটে পণ্য খালাসে আধুনিক ব্যবস্থা থাকলেও যেসব বড় গ্রুপের নিজস্ব লাইটার জাহাজ নেই বা সংখ্যা কম, তারাও সংকটে পড়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এমভি টেলেরিগ জাহাজ থেকে গম খালাসের জন্য আমদানিকারক এস এস ট্রেডিংয়ের অনুকূলে ‘শুভরাজ–৮’ নামের একটি লাইটার জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয় ১১ ডিসেম্বর। প্রায় দুই হাজার টন ধারণক্ষমতার জাহাজটি নারায়ণগঞ্জের একটি ঘাটে নেওয়া হলেও দেড় মাসের বেশি সময়েও জাহাজটি থেকে গম খালাস শেষ হয়নি।
ডব্লিউটিসিসির ২৫ জানুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ দিন থেকে দেড় মাস ধরে দেশের বিভিন্ন ঘাটে পণ্য খালাসের জন্য আটকে থাকা লাইটার জাহাজের সংখ্যা ২৬৫টি। এর মধ্যে ভোগ্যপণ্যবাহী লাইটার জাহাজ ১২২টি।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু এই একটি নয়, এস এস ট্রেডিংয়ের মোট ১৩টি লাইটার জাহাজ এক থেকে দেড় মাস ধরে গম নিয়ে নারায়ণগঞ্জ, নোয়াপাড়া ও কাঁচপুর ঘাটে আটকে রয়েছে। পাশাপাশি ঘাটে শ্রমিকসংকটও রয়েছে। এস এস ট্রেডিংয়ের মতো এন মোহাম্মদ, আকিজ গ্রুপ, বিশ্বাস গ্রুপ ও মদিনা ট্রেডিংয়ের আমদানি করা ভোগ্যপণ্যবাহী লাইটার জাহাজও বিভিন্ন ঘাটে আটকে আছে।