কমিটি আরো উল্লেখ করেছে, বিতর্কিত কয়েকটি চুক্তির মধ্যে আছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি। এটি দেশের বাইরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, কিন্তু ঝুঁকি বাড়ে বাংলাদেশের। এসএস পাওয়ারের এ চুক্তিতে দুটি বড় কেন্দ্র স্থাপন হয়। সামিট মেঘনাঘাটের ক্ষেত্রে গ্যাস শেষের পথে জেনেও এক জায়গায় একাধিক বড় কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে জানা যায়। রিলায়েন্স জেরার ক্ষেত্রে ভারতে পড়ে থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশে চালানোর বিষয় উল্লেখ করা হয়। পায়রার ক্ষেত্রে যেখানে বন্দরই ঠিকমতো কাজ করে না, সেখানে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। আবার আদানির ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরে অন্য বিদ্যুৎ আমদানির উৎস থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ ক্রয় যুক্তিসংগত দামের চেয়ে ৪ থেকে ৫ সেন্ট (প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা) বেশি। সামিট মেঘনাঘাট-২ (গ্যাস) সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর গড় ব্যয়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ইউনিট খরচ দেখা যায়। আবার সামিট বরিশাল (এইচএফও) অন্য এইচএফও কেন্দ্রের চেয়ে ব্যয়বহুল। এসএস পাওয়ারে সমমানের কয়লাভিত্তিক বিকল্প কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প। আর এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও চুক্তিতে রাজনৈতিক আশীর্বাদে থাকা স্পন্সর ও আমলাতান্ত্রিক অংশীদারত্বের যোগসাজশ পাওয়া যায়। এ চুক্তির কারণে সরকারের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেড়েছে ভর্তুকি, লোকসান ও বকেয়া। জাতীয় কমিটি সুপারিশ করেছে আগামীতে সব বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি, সংশোধনী ও পরিশোধ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক প্রকিউরমেন্ট পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। কার্যকর ও স্বচ্ছ প্রকিউরমেন্ট নিশ্চিত করতে হবে। স্বাধীন জ্বালানি তদারকি প্রতিষ্ঠান গঠন করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে দুর্নীতির প্রমাণ মিললে চুক্তি বাতিল করতে হবে। জাতীয় কমিটির প্রধান হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বল এখন বিদ্যুৎ বিভাগের কোর্টে। আদানির মামলার বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে যেহেতু অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে সময় নেই। আমরা চাইব পরবর্তী সরকার যেন এ বিষয়ে উদ্যোগী হয়। বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ এবং এ কমিটির সদস ড. জহিদ হোসেন বলেন, এ চুক্তিগুলো স্পষ্টতই জাতীয় স্বার্থের চেয়ে একটি সীমিত গোষ্ঠীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। অর্থবছর ২০১১ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের পরিশোধিত অর্থ ১১ গুণ বেড়েছে, অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে মাত্র ৪ গুণ। বিপিডিবি বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনছে এবং ২০২৫ অর্থবছরে এর বকেয়া দায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। উৎপাদন সক্ষমতায় উদ্বৃত্ত থাকা সত্ত্বেও সিস্টেমের ব্যবহার হার মাত্র ৪০-৫০ শতাংশ। কমিটি হিসাব করেছে, অতিরিক্ত বা অকার্যকর সক্ষমতার বার্ষিক আর্থিক ব্যয় প্রায় ৯০০ মিলিয়ন থেকে ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতে দেউলিয়ার পথে রয়েছে বিপিডিবি। তিনি বলেন, ঘাটতি ঠেকাতে গেলে পাইকারি দাম ৮৬ শতাংশ বাড়াতে হবে। আর ৮৬ শতাংশ দাম বাড়ালে ভারত-চীন- ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে বেশি হয়ে যাবে। ওইসব দেশের শিল্পের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না বাংলাদেশের শিল্প।