ওকসের বিদায় নেওয়া অনেকটা নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কির মন্তব্যের পর। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন অ্যাশেজের দল ঘোষণার সময় তিনি জানান, ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আর নেই ওকস।কির এমন মন্তব্যের এক সপ্তাহ পরেই ইংল্যান্ড দলের জার্সি-ট্র্যাকশুট তুলে রাখলেন ওকস।বিদায় প্রসঙ্গে ওকস লিখেছেন, ‘মুহূর্তটা এসেছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলার এটাই সঠিক সময়। শৈশবে যখন বাগানবাড়িতে খেলতাম তখন থেকেই ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা স্বপ্ন ছিল।আমি সৌভাগ্যবান যে স্বপ্ন পূরণ করেছি। ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছি। থ্রি লায়নসের জার্সি পরে ১৫ বছর সতীর্থদের সঙ্গে মূহূর্ত তৈরি করেছি। যাদের অনেকেই আজীবনের বন্ধু হয়েছেন।এই মুহূর্তগুলো আমি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করব।’২০১১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে অভিষেক হয় ওকসের। বিদায়বেলা তার মনে হচ্ছে গতকালই যেন অভিষেক হয়েছে। ক্যারিয়ারের ৬২ টেস্টে ১৯২ উইকেট নিয়েছেন। সঙ্গে ১ সেঞ্চুরি ও ৭ ফিফটিতে করেছেন ২০৩৪ রান।১২২ ওয়ানডেতে ১৭২ উইকেটের বিপরীতে করেছেন ১৫২৪ রান। আর টি-টোয়েন্টিতে ১৪৭ রানের বিপরীতে নিয়েছেন ৩১ উইকেট। ম্যাচ খেলেছেন ৩৩টি।ওকসের ক্যারিয়ারের সর্বশেষ ম্যাচ ওভাল টেস্ট। গত আগস্টে ভারতের বিপক্ষে পড়ে গিয়ে কাঁধে চোট পেয়েছিলেন। চোটটা গুরুতরই ছিল। কেননা টান টান উত্তেজনার ম্যাচটিতে ব্যাটিং করার কথা না থাকলেও শেষে ব্যান্ডেজ নিয়েই ব্যাট হাতে মাঠে নামেন তিনি। দল ৬ রানে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে হারলেও ঠিকই এক হাতে ব্যাট নিয়ে মাঠে নেমে ভক্ত-সমর্থকদের হৃদয় জয় করেছিলেন।হৃদয় কাড়ার কাজটাই আরো কিছুদিন করে যেতে চান ওকস। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে যেতে চান ২০১৯ ওয়ানডে ও ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী তারকা। ভক্ত-সমর্থক থেকে শুরু করে সতীর্থ ও কোচদের ধন্যবাদ জানিয়ে ৩৬ বছর বয়সী পেসার লিখেছেন, ‘কাউন্টি ক্রিকেট চালিয়ে যেতে মুখিয়ে আছি। অদূর ভবিষ্যতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সুযোগ পেতে অপেক্ষায় আছি।’