গাজায় লাগাতার ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের মধ্যে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা তাদের দুর্ভোগ নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। প্রাণঘাতী হামলার পর আবু মোহাম্মদ সামুর নামে এক গাজাবাসী বলেন, ‘এটা কে অনুমতি দিল? কেমন মৃত্যু, কেমন অন্যায্য এই দুনিয়া? আমরা আর বিশ্বের কাছে আবেদন করি না। আমরা হাল ছেড়ে দিয়েছি।আবু আম্মার খুদিয়ার নামে অন্য এক ব্যক্তি বলেন, ইসরায়েলি হামলায় শিশু, বৃদ্ধ ও নারী— সবাই লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।কোনো জায়গাই নিরাপদ নয়।এদিকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৬৬ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে গাজা সিটিতে ইসরায়েলি স্থল অভিযানে যতসংখ্যক মানুষ মারা গেছে, তার অর্ধেকই হয়েছে ইসরায়েল ঘোষিত নিরাপদ অঞ্চল বা বাফার জোনে।গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ৭৯ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল।একই সময়ে ৩৭৯ জন আহত হয়েছে। অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। এদিকে নিরাপদ বা বাফার জোন ঘোষণা দেওয়া স্থানগুলোতেই নৃশংস হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। গত শনিবার গাজা উপত্যকাজুড়ে তাদের অব্যাহত হামলায় কমপক্ষে ৯২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।এর মধ্যে শুধু গাজা সিটিতেই কমপক্ষে ৪৫ জন মারা যায়।গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করে বলেছে, ইসরায়েল গাজা সিটি থেকে মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়ে এসব জায়গাকে ‘নিরাপদ মানবিক অঞ্চল’ হিসেবে প্রচার করলেও বাস্তবে সেই এলাকাগুলোকেই তারা হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে।এরই মধ্যে ইসরায়েলি হামলা তীব্র হওয়ার কারণে গাজা সিটির অনেক হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিনই শহর দখল ও আরো বেশি মানুষকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গাজার হাসপাতালগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অব্যাহত হামলার কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..