ঢাকার রমনা এলাকায় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন সাংবাদিক হামলার শিকার হওয়ার খবরে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশি জার্নালিস্টস ইন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া (বিজেআইএম)।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একাধিক সাংবাদিক আহত হন।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের ব্যারিকেড ভেঙে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল ও জলকামান ব্যবহার করে।এমনকি নারী বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগও রয়েছে।প্রতিবেদনগুলোতে আরো বলা হয়েছে, ভিডিও ধারণের সময় অন্তত একজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে পুলিশ সদস্যরা হামলা করেন। তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। তিনি নিজেও মাটিতে পড়ে গেলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ওই সাংবাদিকের আঙুলে ফ্র্যাকচারসহ পিঠ ও পাঁজরে গুরুতর আঘাতের কথাও খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।বিজেআইএম নিরস্ত্র সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের যেকোনো ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সংবাদ সংগ্রহের অধিকারকে সম্মান করতে হবে- এটি নিশ্চিত করার দায় রাষ্ট্রের। বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ে দাঁড়িয়ে।
গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তারই প্রেক্ষাপটে আর কয়েক দিন পরেই একটি ঐতিহাসিক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।ভয়ভীতি বা বাধা ছাড়া গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে— এ পরিবর্তনও আমাদের কাম্য।অভিযোগগুলো সত্য হলে, এটি একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ক্ষমতার গুরুতর অপব্যবহারের শামিল এবং গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।বিজেআইএম অবিলম্বে এ ঘটনার একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা, দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকরা যাতে নিরাপদে ও বাধাহীনভাবে কাজ করতে পারেন, সে বিষয়ে সরকার ও পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..