কুড়িগ্রামের উলিপুরে ৭০০ শিক্ষার্থীর মুখে হাসি ফোটাল কাগজবাড়ি নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ‘মায়ের ভাষা অন্তরে, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সবার তরে’ স্লোগানকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার সাকসেস রেসিডেন্সিয়াল স্কুল প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে তিনটি বিদ্যালয়ের অন্তত ৭০০ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে হাতের লেখা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস ফাতিমা তোকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন, তরুণ সমাজসেবক ও আলোর কাফেলা সংগঠনের সভাপতি বিপ্লব আনসারী, সাকসেস রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সাইদুল ইসলাম খন্দকার, গুনাইগাছ আরিফিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ স্কাউসট উলিপুর উপজেলার কমিশনার মুহা. রফিকুল ইসলাম আনসারী, নওয়াব বেনু ক্যাডেট মাদরাসার প্রধান শিক্ষক এনামুল হক, দৈনিক যুগান্তরের উলিপুর প্রতিনিধি উত্তম কুমার সেনগুপ্ত লক্ষণ।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক ও অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিন সকাল থেকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের কোলাহল, অতিথিদের আগমন এবং নানা কার্যক্রমে সরগরম হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বিদ্যালয় উলিপুর উপজেলার পাঁচটি বিদ্যালয়ের জন্য ল্যাপটপ প্রদান করা হয়। এই ল্যাপটপের মাধ্যমে কাগজবাড়ির একজন প্রতিনিধি সারা বছর বিশেষজ্ঞ শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবেন। বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররে মাধ্যমে এই স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবে মেডিকো বায়ো।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস ফাতিমা বলেন, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ ও বছরব্যাপী বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
এতে গ্রামীণ স্কুলগুলোতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা অনেক উপকৃত হবে। শিক্ষাসামগ্রীর অভাবে তাদের আর স্কুলে আসা বন্ধ হবে না।
শিক্ষার্থীদের জন্য কাগজবাড়ির স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের প্রসংশা করে তিনি বলেন, এ উদ্যোগের ফলে স্কুলে বসেই শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে। এজন্য অভিভাবক ও শিক্ষকদের এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নার্গিস ফাতিমা বলেন, তিনটি বিষয় সব সময় তোমাদের মেনে চলতে হবে। তা হলো- সব সময় সৎ থাকা, সময়ের দাম দেওয়া এবং দায়িত্ববান হওয়া।
তিনি আরও বলেন, আজ কাগজবাড়ি এখানে এসেছে। গ্রামের স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য তারা যে উদ্যোগ নিয়েছে তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমার উপজেলার স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে যদি কেউ একটি পেন্সিল দিয়েও সহায়তা করে তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ থাকি। আমিও নিজেও কাজগবাড়ির এই স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করব। আমার উপজেলায় শিক্ষা পরিবারে যারা আছে তারাও এর আওতাভুক্ত হবে বলে জানান তিনি।
তরুণ সমাজসেবক ও আলোর কাফেলা সংগঠনের সভাপতি বিপ্লব আনসারী বলেন, কাগজবাড়ি যে উদ্যোগ নিয়ে আমাদের এখানে এসেছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা চাই উলিপুরের প্রত্যেকটা শিক্ষার্থী এই সুযোগ সুবিধা পাবে।
কাগজবাড়ি ইডিটেকের পরিচালক জাহিদ আনোয়ার বলেন, আজ আমরা মহান এক উদ্যোগ নিয়ে উলিপুরে এসেছি। এখানকার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্যসেবাকে নিশ্চিত করার জন্য আমরা নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শুধু উলিপুর নয়, কাগজবাড়ির এই কার্যক্রম পুরো কুড়িগ্রামে ছড়িয়ে দিতে চাই।

কাগজবাড়ি ইডিটেকের আন্তর্জাতিক গণসংযোগ কর্মকর্তা নুর এ আব্দুল্লাহ হামদি বলেন, কাগজবাড়িকে আমরা দেশের বাইরেও ছড়িয়ে দিতে চাই। তারই ধারাবাহিকতায় ভাষার মাসে বিশ্বের ২১টি দেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কম খরচে ভর্তি হওয়ার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি প্রতিবছর একজন শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে বিদেশে লেখাপড়ার সুযোগ করে দেবে কাগজবাড়ি।
সাকসেস রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সাইদুল ইসলাম খন্দকার বলেন, শহরের তুলনায় গ্রামের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যগত সুযোগ সুবিধা থেকে অনেক বেশি বঞ্চিত। তাদের জন্য কাগজবাড়ি যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সেজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি মেডিকেল হেলথ ক্যাম্প পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীরা সেখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ পায়।
পাশাপাশি আয়োজন করা হয় হাতের লেখা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশেষ সম্মাননাও দেওয়া হয়। এছাড়া কাগজবাড়ি পক্ষ থেকে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সবশেষে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে অবদান রাখায় আলোর কাফেলা সংগঠনের পক্ষ থেকে কাগজবাড়িকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।