কৃষি মন্ত্রণালয়ে তদন্তের চাপ, ৯ কর্মকর্তা বরখাস্ত, অভিযুক্তের তালিকায় আরো ৫০ জনের নাম : দুদক ও মন্ত্রণালয়ের তদন্তে এরই মধ্যে সাবেক প্রকল্প পরিচালক তারিক মাহমুদুল ইসলামসহ ৯ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অনিয়মে জড়িত আরো ৫০ জনের বেশি কর্মকর্তা শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন।তদন্তে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানান, এই দুর্নীতির জাল অনেক বিস্তৃত। পুরো বিষয় খতিয়ে দেখতে সময় লাগবে। প্রায় সব জেলাতেই ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে এবং সবখানেই অনিয়ম হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে আরো অনেক কর্মকর্তা দায়ী হবেন। তিনি আরো জানান, শুধু কর্মকর্তাদের শাস্তি দিলেই হবে না, যেসব যন্ত্র সরবরাহকারী কম্পানি এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভর্তুকি বন্ধ, ভুগছেন কৃষক, ভর্তুকি চালুর প্রস্তাব : দুর্নীতি ও নানা অনিয়মে কার্যত প্রকল্পটি অচল হয়ে পড়লেও এখনো প্রকল্পটির ৫০০ কোটির বেশি টাকা উদ্বৃত্ত আছে। এ অবস্থায় প্রকল্প দপ্তর ভর্তুকি কার্যক্রম চালু রাখার প্রস্তাব পাঠিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ে।সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের পরিচালক মো. মঞ্জুর-উল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রকল্পের অবশিষ্ট অর্থ কৃষকদের মধ্যে স্বচ্ছতার সঙ্গে যন্ত্র কেনায় ভর্তুকি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। অতীতের লুটপাটে কৃষি যন্ত্রায়ন পিছিয়ে পড়েছে। এখন ভর্তুকি বন্ধ থাকলে কৃষক আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’কৃষি কর্মকর্তারা জানান, অর্থছাড় না হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিকের সংকট, ব্যয় বৃদ্ধি এবং কাজ শেষ করতে বেশি সময় লাগছে। এতে ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের আয়ে নেতিবাচক চাপ পড়ছে।