দেশজুড়ে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ভয়াবহ আকারে বেড়েই চলছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এই রোগের উপসর্গ নিয়ে ১৪৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সংকটাপন্ন এই অবস্থার মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে রাজনীতিবিদদের ঘরে ঘরে গিয়ে টিকার তথ্য দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কড়াইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী আয়োজনে এ আহ্বান জানান তিনি।হামের টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জরুরি ক্যাম্পেইন সফল করতে হলে সর্বস্তরের সবাইকে নিয়ে যে যার এলাকায় সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে এই ক্যাম্পেইন সফল করুন। এই ক্যাম্পেইন রাজনীতিবিদদের জন্য সুযোগ। আপনারা ঘরে ঘরে গিয়ে টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য দিন।’
সবাইকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘৫৯ মাস পর্যন্ত যাদের বয়সি শিশুদের অবশ্যই টিকা দিতে হবে।শুধু আপনার বাচ্চা টিকা নিলো কি না তাতেই হাম প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। গোষ্ঠীর সবার মধ্যে রোগ প্রতিরোধ তৈরি করা গেলেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব। অন্তত ১০০ জনে ৯৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। যাতে দু-চারজন বাদ গেলেও সংক্রমণের ঝুঁকি না থাকে।
আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের সর্বাত্মক সমর্থন দিচ্ছে। সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে একযোগে কাজ করবে বলেও জাননা তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তরে হামের চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল তৈরির জন্য প্রতিমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘এখন থেকেই শিশুদের হাম রুবেলা টিকা দেয়া গেলে তা নিয়ন্ত্রণে নেয়া সম্ভব।মন্ত্রণালয় থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় শুরু হয় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি। তারই অংশ হিসেবে আজ শুধু ডিএনসিসি নয় ডিএসসিসির পাশাপাশি ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০ এপ্রিল সারা দেশে একযোগে শুরু হবে টিকা কার্যক্রম।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৮০ জন। এসময় এ রোগে মারা গেছে ১ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১৪৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে মারা গেছে ২৪ শিশু। হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ২ হাজার ৪৮৯। আর সন্দেহজনক হাম নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৪৬৩। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ২২ শিশু।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..