কম খরচ ও অধিক লাভজনক হওয়ায় জামালপুরে সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের সম্ভাবনার পাশাপাশি বালুময় চরাঞ্চলের কৃষিতে পরিবর্তন আসছে।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। বিশেষ করে মেলান্দহ, ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলে বেশি হয়েছে সূর্যমুখীর আবাদ।কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সূর্যমুখী বীজ বপন থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সময় লাগে মাত্র তিন মাস। পতিত জমি ও নদীর বালুময় চরাঞ্চল এ ফসলের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। যেখানে অন্য ফসল ফলানো কঠিন, সেখানেও সূর্যমুখী ভালো ফলন দেয়। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন পাওয়া যায় প্রায় ১ দশমিক ৫ মেট্রিক টন।মেলান্দহ উপজেলার বেলতৈল এলাকার কৃষক মো. চাঁন মিয়া ও কামরুল ইসলাম জানান,নদীর পাড়ের বালুময় জমিতে দুই বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। কৃষি বিভাগের সহায়তায় আবাদ করা এ ফসল থেকে তারা ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করার আশা করছেন।নাংলা এলাকার কৃষক মো. মোস্তফা বলেন, প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী চাষ করেছি। গাছে বড় আকৃতির ফুল এসেছে।ফলন ভালো হলে লাভজনক হবে। গত বছর একজন চাষ করেছিলেন, তাঁর সফলতা দেখে এবার আমিও আবাদ করেছি। ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী এলাকার কৃষক সুলাইমান হোসেন বলেন, যমুনার চরে বালুমাটিতে সূর্যমুখী ভালো হয়। প্রতিবিঘা থেকে ছয় থেকে সাত মণ বীজ পাওয়া যায়। ভুট্টার তুলনায় সূর্যমুখীতে লাভ বেশি, কারণ উৎপাদন খরচ কম।মেলান্দহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, সূর্যমুখী চাষে তুলনামূলক কম খরচে বেশি লাভ সম্ভব। পতিত ও বালুময় জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনা যাচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য ইতিবাচক।জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বলেন, কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। জামালপুরে চরাঞ্চল এ ফসলের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সূর্যমুখীর আবাদ বাড়লে ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..