দুদকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংস্থাটির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। সভায় দুদকের কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ ও সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম উপস্থিত ছিলেন।দুদক চেয়ারম্যান বলেন, যিনি দুর্নীতিগ্রস্ত হন তার ওপরেই চাপ বেশি আসে। দুর্নীতিগ্রস্ত না হলে, ঘাড় সোজা থাকলে চাপ কম আসবে। আপনাকে যারা চাপ দেবে তারাও চিন্তা করবে চাপ দেবে কি না। আগামী দিনগুলোতে যারা দুদকে অন্যায়ভাবে চাপ প্রয়োগ করবে আমরা তাদের নাম প্রকাশ করে দেব।দুদক এখনো নখ-দন্তহীন বাঘ কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দাঁত যতটা তীক্ষ্ন হওয়ার দরকার ছিল, ততটা তীক্ষ্ন এখনো হয়নি। নখও পুরোপুরি গজায়নি। মাঝামাঝি পর্যায়ে আছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গার দুর্নীতি প্রতিরোধ করা দুদকের একার কাজ নয়। তিনি দুর্নীতি প্রতিরোধে সফল দেশ হিসেবে সিঙ্গাপুরের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, দেশটির প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজেরাই দুর্নীতি নিরোধক। এর বাইরে তাদের আমাদের মতো একটা প্রতিষ্ঠান আছে, যার কাজ হচ্ছে দেখাশোনা করা, খবরদারি করা। যেই দুর্নীতিগুলো অফিসে সমাপ্ত হওয়ার কথা; সেখানে ইন্টার্নাল অডিট হয়। এক্সটারনাল অডিট হয়, তার পরও আমার কাছে আসে কী জন্য। আসার তো কোনো কারণই নেই।ড. আবদুল মোমেন বলেন, ভোটে কালো টাকার দৌরাত্ম্য আগে দেখেছি। এবারও হয়তো হবে। আপনি ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করলেন। ১ কোটি টাকা এদিক-সেদিক করলেন, ৯ কোটি টাকাই লাভ। তার চেয়ে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতে ১০০ কোটির দন্ড দেওয়া হলে সেটা আর করবে না।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের হাতে সময় খুবই কম। আপনারা হুইসেলে ফুঁ দেবেন, আমরা আমাদের শক্তি-সামর্থ্য দিয়ে সেটা পরীক্ষার চেষ্টা করব। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে হলফনামা পরীক্ষা করা হবে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, না হওয়ার কোনো কারণ নেই। ১০০ বার করব। উই আর নট সাই। আমাদের সম্পদ খুব সীমাবদ্ধ। লোকবল সীমিত। আমরা ৫-৭ জনের একটা টিম গঠন করতে পারি কি না, সেটা দেখব।
উপদেষ্টাদের পিএসের দুর্নীতির অনুসন্ধানের অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের চারটা ফাইল ছিল। সেগুলোর অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পথে, কাজগুলো সম্পন্ন হয়নি। সম্পন্ন হলে সবাই জানবেন।
মতবিনিময়ের শুরুতে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত দুদকের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, ওই সময়ের মধ্যে ১১ হাজার ৬৩০টি অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৯৬০টি গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ৫১২টি মামলায় আসামি করা হয় ২ হাজার ১৯১ জনকে। চার্জশিট দাখিল করা হয় ৩১৫টি। অভিযুক্ত করা হয় ১ হাজার ৭৮ জনকে। তথ্যানুযায়ী, মামলায় আসামি হয়েছেন ১৫১ জন রাজনীতিবিদ এবং ৪৭৫ জন সরকারি চাকরিজীবী। চার্জশিটে অভিযুক্ত হয়েছেন ২৮ জন রাজনীতিবিদ এবং ৪৩৫ জন সরকারি চাকরিজীবী।