রমেশ চন্দ্রের স্ত্রী তুলশী রানী মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৩০ বছর ধরে আমার স্বামী মাইনষের বাড়ি বাড়ি ঘুইরা ঘুইরা গাছপালা পরিষ্কার করে। এতে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে, কি করব সংসার তো চালাতে হয়। আমার বিয়ের সময়ও তার চোখ ভালো ছিল। একদিন হঠাৎ করে কি এক রোগ হইল, ঢাকা, কুমিল্লায় অনেক ডাক্তার দেখাইছি, অপারেশন করাইছি কিন্তু চোখ ভালো হইলো না। এরপর আস্তে আস্তে কানেও কম শুনতে থাকে। কানের কাছে জোরে কিছু কইলে শুনে, না হয় শোনে না। এই বয়সেও গাছ পরিষ্কার করেই সংসার চালায়। ভাঙাচোরা একটি ঘরে কোনো রকম দিন কাটাই। বৃষ্টি এলে ঘরে জল পড়ে, সরকার যদি আমাগোরে একটা ঘর দিত তাইলে অনেক উপকার হইতো। ’
রমেশ চন্দ্রের ভাতিজা তপন চন্দ্র মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কাকার এক ছেলে নিতাই চন্দ্র মজুমদার। সে ৯ মাস আগে সৌদি আরবে গেছে, এখনো আকামা পায়নি, কাজ করতে পারে না। দুই মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। স্ত্রী, ছেলের বউ-নাতী ও সংসারের ভার এখনো কাকার কাঁধে। অভাবের সংসার এই কাজ না করেও উপায় নেই। দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি নাই গ্রামে গ্রামে ঘুরে গাছের ডাল-পালা কাটে, এতে যা আয় হয় তা দিয়েই সংসার চালায়।’
রমেশ মজুমদারের কানে জোরে শব্দ করে এ প্রতিবেদক জানতে চান, চোখে দেখেন না, কানেও শোনেন না বৃদ্ধ বয়সে এ কাজ কেন করেন?
রমেশ মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন আর আগের মতন গাছ বাইতে পারি না, শইলে কোলায় না। ৩০ বছর ধরে এ কাম করি। কাম না করলে কী খামু বাবা? সংসার চলব ক্যামনে? বাড়ি বাড়ি ঘুরি কোনোদিন কাম পাই, কোনোদিন পাই না, কাম না পাইলেও দুঃখ নেই, তবু কারো কাছে হাত পাতি না। যে যা খুশি হইয়া দেয় তা-ই দিয়ে চলি।’
রমেশ চন্দ্রের প্রতিবেশীরা বলেন, ‘অনেক সময় তিনি ভুল পথে চলে যান, হারিয়ে ফেলেন রাস্তা। তখন কেউ তাকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেয়, কেউ আবার মজা করে ভুল রাস্তা দেখিয়ে দেয়। এসব সয়ে নিয়েই বেঁচে আছেন বৃদ্ধ রমেশ। তার বসবাসের ঘরটিও এখন ভাঙাচোরা। বৃষ্টির দিনে ঘরের ভেতরও পানি পড়ে। সরকার যদি একটা ঘর করে দিত, তাহলে তার অনেক উপকার হতো।’
দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাছরীন আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রমেশ চন্দ্র মজুমদারকে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে বয়স্কভাতা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সরকারিভাবে ঘর বরাদ্দের কোনো প্রকল্প নেই। এমন প্রকল্প চালু হলে তাকে একটি ঘর উপহার দেওয়া হবে। এ ছাড়াও তার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে বিভিন্ন সহযোগিতা করা হবে।’