২০১৯ সালের পঞ্চম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দোয়াতকলম প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনকে পরাজিত করেন ডা. জহির উদ্দিন।মাত্র ১৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে চেয়ারম্যান হন তিনি। স্থানীয় রাজনীতিতে তখন থেকেই ‘প্রভাবশালী স্বতন্ত্র’ হিসেবে তাঁর অবস্থান তৈরি হয়।২০২৪ সালে ষষ্ঠ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হন ডা. জহির। নির্বাচন চলাকালেই ৩ মে তাঁকে রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনীত করার ঘোষণা আসে।এর কিছুদিন পরই তিনি নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, তৎকালীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মহিব্বুর রহমান মহিবের নির্দেশে ডা. জহিরকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা করার লিখিত ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনার পর থেকেই তিনি নিয়মিত আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। সেই সময়ের একাধিক ভিডিও ও স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছিল বলেও দাবি তাঁদের।কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের তিন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই সেইসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেনের সঙ্গে একটি দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগে একান্তভাবে তাঁরা দুজনে কথা বলছিলেন। এমনকি তৎকালীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মহিব্বুর রহমান মহিবের সঙ্গে তাঁর খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে।
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ডা. জহির প্রথমে যোগ দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে। কিছুদিনের মধ্যেই সেই দল ছাড়িয়ে যুক্ত হন খেলাফত মজলিসে। আর এখন তিনি ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী, প্রতীক দেয়ালঘড়ি।জোট সূত্র জানায়, এই আসনে আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের নাম আলোচনায় ছিল। দলটি জোট থেকে সরে যাওয়ার পরই নতুন করে প্রার্থী খোঁজা শুরু হয়। তখন স্থানীয়ভাবে পরিচিত মুখ হিসেবে ডা. জহির উদ্দিনকেই চূড়ান্ত করা হয়।সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
সব অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি কখনো আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান ছিলাম না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই চেয়ারম্যান হয়েছি। এমপি কখনো দলের পদ দিতে পারে না। জেলা কমিটি বা কাউন্সিল ছাড়া পদ বৈধ নয়। আমি কখনো সম্মতি দিইনি। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাড. নাজমুল আহসান বলেন, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আবদুল কাইউম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ডা. জহির উদ্দিন আহমেদই পটুয়াখালী-৪ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকছেন। আমরা তাঁকে সহযোগিতা করব।রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, পটুয়াখালীর চারটি সংসদীয় আসনে মুহাম্মদ আবদুল কাইউমসহ পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এখন বৈধ প্রার্থীদের আগামীকাল বুধবার প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।