তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যাঁরা দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জীবন দিয়েছেন ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন আর ২০২৪ সালে যাঁরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করেছেন, তাঁরা একই ধারার যোদ্ধা। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা যদি ব্যর্থ হই, তাহলে ভবিষ্যতেও এভাবেই শোকগাথা আর শোকসমাবেশ চলতেই থাকবে। তাই আগামী নির্বাচনে গণতন্ত্রের বিজয়গাথা রচনা করতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।গতকাল রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জুলাই গণ অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এ কথা বলেন। বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ও দলের সহ দপ্তর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট দেওয়া নিজের বক্তব্যের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, সেদিন তিনি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শহীদদের নাম উল্লেখ করেছিলেন-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, স্কুলের ছাত্র, আইনজীবী, রাজমিস্ত্রি, দোকানের কর্মচারী, গাড়িচালক, দিনমজুর- এমনকি ছয় বছরের শিশু রিয়াও সেই গণহত্যা থেকে রেহাই পায়নি। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর ছিল না। দলমত-ধর্মবর্ণনির্বিশেষে দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিক মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। সেদিনকার প্রতিটি ছবি তার সাক্ষ্য দেয়।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের বছর আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন। এই আন্দোলনের চেতনাকে সুসংহত করতে হলে দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। যারা এই স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাদের বিষয়ে গণতন্ত্রকামী মানুষকে সজাগ থাকতে হবে। জুলাই গণ অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে বিএনপি প্রধান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কষ্ট কোনো কিছুর বিনিময়েই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং যে উদ্দেশ্যে তাঁরা রাজপথে নেমেছিলেন, সেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তাঁদের প্রতি দায়িত্ব পালন করা যেতে পারে।
তারেক রহমানের সঙ্গে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস। এ সময় তারা কুশল বিনিময় করেন এবং নিজ নিজ দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন ও সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের ব্যাপারে আলোচনা করেন।
গতকাল বিকাল ৫টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। তারেক রহমানের সঙ্গে পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেসের সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য ও দলটির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির।