সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের রায় বাস্তবায়ন আইনি পথেই, আইনসঙ্গতভাবেই হবে। বেআইনী বা আইনসঙ্গত নয় এমন পথ সরকার অবলম্বন করবে না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নী জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গনে রায়ের প্রতিক্রিয়া এ কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম একটি রায় হয়েছে।আপনারা যারা বলছেন, শেখ হাসিনার মামলার কি রায় হলো। আমি বলছি, জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন সেই মামলায় কি রায় হলো। আমরা বলতে যাচ্ছি, জুলাই বিপ্লবে শহিদদের মামলায় শহিদরা, রাষ্ট্র, প্রসিকিউশনপক্ষ ন্যায় বিচার পেয়েছে। এ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে, ন্যায়বিচারের মানদণ্ডের জন্য এ মামলার দুইজন আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।তিনি আরো বলেন, ‘একজন আসামি যিনি রাজসাক্ষী হিসেবে নিজেকে আদালতের সামনে উপস্থাপন করেছেন, সার্বিক বিবেচনায় আদালত তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। আমরা মনে করি, শহিদদের প্রতি, দেশের প্রতি, এদেশের মানুষের প্রতি, গণতন্ত্রের প্রতি সংবিধানের প্রতি, আইনের শাসনের প্রতি আগামির প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতা পরিশোধের স্বার্থে এ রায় একটি যুগান্তকারী রায়। এ রায় প্রশান্তি আনবে, ভবিষ্যতের প্রতি একটা বার্তা, বাংলাদেশের ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের প্রতি মাইলফলক হয়ে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘৫টা অভিযোগের তিনটা পয়েন্টে আসামিদের সাজা দেওয়া হয়েছে।সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সসেলিবিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড, সরাসরি হত্যার নির্দেশ দেওয়ায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এরপর রাষ্ট্র আইনিভাবে যা যা করার করবে। রায়ে শহিদদের, আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে আদালত বলেছেন, ‘এ মামলার মধ্যে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের ইস্যু ছিল না বলে, ওই বিষয়ে তারা কোনো কমেন্টস করেননি। শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালের বাংলাদেশের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি দেশের প্রতি এদেশের মানুষের প্রতি গণতন্ত্রের প্রতি সংবিধানের প্রতি আইনের শাসনের প্রতি এবং আগামী প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতা পরিষদের স্বার্থে এ রায় একটি যুগান্তকারী রায়। এই রায় প্রশান্তি আনবে।’
এর আগে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রায় ঘোষণা করেন। একই অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত। অপর আসামি ও পরে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের রায় দেন আদালত।এ রায়ে উল্লাস করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা মিষ্টি বিতরণ করেছেন। সোমবার দুপুরে শেখ হাসিনার রায় পর্দায় দেখানোর ব্যবস্থা করে ডাকসু। টিএসসিতে সরাসরি রায় দেখতে ভিড় করেন শিক্ষার্থীরা।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..