বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে সাংবিধানিক আদেশ জারি করার কোনো এখতিয়ার বর্তমান রাষ্ট্রপতির নেই মন্তব্য করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে এই ধরনের সাংবিধানিক আদেশ জারি করার কোনো এখতিয়ার বা বৈধতা বর্তমান রাষ্ট্রপতির নেই। আপনাকে যদি এ ধরনের সাংবিধানিক আদেশ জারি করতে হয় তাহলে তার বৈধতা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে নিতে হবে, যেখানে জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের প্রতিফলন ঘটেছিল। ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অভিপ্রায় বর্তমান রাষ্ট্রপতি যিনি রয়েছেন, তিনি ধারণ করতে পারেন না। তার কাছ থেকে এই আদেশ জারি হলে সেটি নৈতিকভাবে এবং রাজনৈতিকভাবে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ রাষ্ট্রপতি জুলাই অভ্যুত্থানের সিম্বল নয়। বরং প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ছাত্র-জনতার আহ্বানে সেই সময় বাংলাদেশে এসেছেন, সরকারের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং ছাত্র-জনতার অভিপ্রায় সব কিছু তার কাছে অর্পণ করা হয়েছে। ফলে সেটা একমাত্র সরকারপ্রধান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জারি করতে পারবেন। তার আদেশ জারির মাধ্যমেই এই সনদ একটি আইনি ভিত্তি পাবে।’
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না হলে এনসিপি কী কর্মসূচি দেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কমিশন যদি আলোচনায় ডাকে আমরা তাদের সঙ্গে বসব, আলোচনা চালিয়ে যাব। দ্বিতীয়ত, জনগণের কাছে আমাদের যেতে হবে। কারণ আমরা মনে করি জনগণের বিরুদ্ধে গতকালের ঘটনাটি ঘটেছে। ফলে আমাদের রাজপথে কর্মসূচি থাকবে এবং আমরা দ্রুতই সেই কর্মসূচি ঘোষণা করব।’
নির্বাচন কমিশন শাপলা প্রতীকের বিকল্প বেছে নিতে এনসিপিকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। এনসিপি প্রতীক পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে নাহিদ বলেন, ‘আমরা খুবই স্পষ্টভাবে বলেছি শাপলাই হবে জাতীয় নাগরিক পার্টির মার্কা। সেই মার্কা নিয়ে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই। এখন যদি নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী পরিচালিত না হয়, তারা যদি গায়ের জোরে বা অন্য কারো প্রেসক্রিপশনে কোনো সিদ্ধান্তে যায়, তাহলে তার প্রতিবাদ তো আমাদের জানাতে হবে। আমাদের যদি নির্বাচনে এইভাবে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখার অপচেষ্টা করা হয়, তাহলে অবশ্যই রাজপথই আমাদের একমাত্র জায়গা হবে। কিন্তু আমরা এটা চাই না।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের এক বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সালাহউদ্দিন সাহেব গতকালের (শুক্রবার) ঘটনায় জুলাইযোদ্ধাদের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অনুসারী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি। হয়তো তিনি ভুলবশত এ রকমটা বলেছেন। আমাদের আহ্বান থাকবে তিনি তার এই বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করবেন এবং তিনি আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারদের কাছে ক্ষমা চাইবেন।’