বার্লিন থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের মুখপাত্র বলেন, ‘এই সংঘাতের ন্যাটোর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।স্টেফান কর্নেলিয়াস সাংবাদিকদের বলেন, ‘ন্যাটো মূলত জোটভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষার জন্য গঠিত একটি সামরিক জোট। তিনি আরো বলেন, ন্যাটো বাহিনী মোতায়েন করার মতো কোনো আদেশ বা সিদ্ধান্ত এখনো দেওয়া হয়নি।’জার্মানির মতোই নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়েছে ন্যাটোর আরেক সদস্য যুক্তরাজ্য। হরমুজ প্রণালীতে যেকোনো অভিযানে যোগদানের বিষয়ে লন্ডন থেকে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই এটি ন্যাটোর কোনো অভিযান হবে না এবং এমনটা করার কোনো পরিকল্পনাও কখনো করা হয়নি।’
রবিবার হরমুজ প্রণালী সুরক্ষিত করার জন্য যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের একটি নৌ জোট গঠনের ট্রাম্পের আহ্বানে জার্মানির সঙ্গে যোগ দিয়ে বেশ কয়েকটি ইইউ দেশ সংশয় প্রকাশ করেছে।
এই প্রণালী দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হয়। যুদ্ধের ফলে উপসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানজুড়ে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। ইরান এর প্রতিশোধ হিসেবে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।
ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন দেশটির এএনপি সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন যে, ‘স্বল্প মেয়াদে সেখানে একটি সফল অভিযান চালানো খুব কঠিন হবে।’ লিথুয়ানিয়া ও এস্তোনিয়া বলেছে, ন্যাটো দেশগুলোর যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যের অনুরোধ বিবেচনা করা উচিত। তবে যেকোনো সম্ভাব্য অভিযানের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আরো স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তারা সতর্ক করেছে।
এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গাস চাহকনা আরো বলেছেন, ‘ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা ট্রাম্পের কৌশলগত লক্ষ্য বুঝতে চায়। পরিকল্পনাটা কী হবে? ’
গ্রিক সরকারের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস বলেছেন, গ্রিস হরমুজ প্রণালীতে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেছেন, ‘ইতালি এমন কোনো নৌ অভিযানে জড়িত নয়, যা ওই এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।’ তবে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন বলেছেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার মার্কিন-ইসরায়েলি সিদ্ধান্তকে ইউরোপ সমর্থন না করলেও, প্রণালীটিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করার বিষয়ে তাদের মন খোলা রাখা উচিত।’
রাসমুসেন বলেন, ‘বিশ্বকে আমরা যেমন দেখতে চাই, বাস্তবে তা সব সময় তেমন হয় না। তাই বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, উত্তেজনা কমাতে ইইউকে একটি পরিকল্পনা তৈরি করা দরকার।
এদিকে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাডোস্লাভ সিকোরস্কি বলেছেন, ট্রাম্পের প্রশাসনের উচিত সঠিক প্রক্রিয়া মেনে চলা।
তিনি বলেন, যদি ন্যাটোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অনুরোধ জানায়, তাহলে পোল্যান্ড বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করবে। তিনি আরো জানান, ন্যাটোর চুক্তির ৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশ যদি মনে করে তার নিরাপত্তা হুমকির মুখে, তাহলে তারা মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে পারে।
ইইউ ট্রাম্পের চাপ অনুভব করছে
সোমবার ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী অবরোধ মুক্ত করতে সাহায্য করতে অনিচ্ছুক দেশগুলোর সমালোচনা করেছেন। হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘কিছু দেশ খুব উৎসাহী, আবার কিছু দেশ নয়। কিছু দেশ এমন, যাদের আমরা বহু বছর ধরে সাহায্য করে আসছি। আমরা তাদের বহিরাগত হুমকি থেকে রক্ষা করেছি কিন্তু তারা এখন এ বিষয়ে আগ্রহী নন। তাদের উৎসাহ আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’
ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের অনিচ্ছায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, ন্যাটোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার সবচেয়ে পুরোনো মিত্রকে রক্ষা করতে খরচ করতে পারে। তিনি আরো বলেন, রুবিও শিগগিরই জানাবেন কোন কোন দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে রাজি।
ব্রাসেলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে বলেন, ‘কেউ এই যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে চায় না।’
আলজাজিরার স্টেপ ভেসেন বলেছেন, ইউরোপীয় নেতারা হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে ট্রাম্পের চাপ ক্রমশ অনুভব করছেন, এটা স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধে যোগদানের জন্য ইইউ নেতাদের খুব কম আগ্রহ রয়েছে। তারা হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার একটি উপায় নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী, তবে এর অর্থ যুদ্ধজাহাজ পাঠানো নয়।’