ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ বাজারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সর্দারসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ গাড়ি, দেশীয় অস্ত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। মামলা দায়েরের পর শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে তাদের কুমিল্লা জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
দাউদকান্দি মডেল থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ইলিয়টগঞ্জের লক্ষীপুর গ্রামের সড়কের মাথা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।পুলিশ উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় নীল-হলুদ রঙের, রেজিস্ট্রেশন নম্বরবিহীন একটি পিকআপসহ ডাকাত দলের ৭ সদস্যকে আটক করা হয়। তবে আরো ৭–৮ জন ডাকাত পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রের সর্দার সাদ্দাম হোসেনের বাসা থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি ও দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—
১. মোঃ সাদ্দাম হোসেন (৩২), ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিন ইউনিয়নের টামটা গ্রামের মৃত ওয়াদুদ মিয়ার ছেলে
২. মোঃ সুমন (৩০), কুমিল্লা কোতয়ালী উপজেলার আলেখারচর গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে
৩. মোঃ দুলাল মিয়া (২৮), কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার আলতাব আলীর ছেলে
৪. মোঃ সোলেমান রুবেল (৩৫), ফেনী সদর উপজেলার রামপুর গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে
৫. ফকির আহমেদ আলাউদ্দিন (৫৫), নোয়াখালী কবিরহাট উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামের মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে
৬. মামুনুর রশিদ সোহাগ (৩৫), লক্ষীপুর রায়পুর উপজেলার চর আবাবিল গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে
৭. মোঃ শাহীন (২৫), ভোলা চরফ্যাশন উপজেলার বজলু বাজার গ্রামের শাহজাহানের ছেলে
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল হালিম জানান, গ্রেপ্তারের পর দণ্ডবিধি ৩৯৯/৪০২ ধারা এবং অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।পলাতক ডাকাতদের গ্রেপ্তারের অভিযান এখনও চলমান।পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, চাঁদপুর ও লক্ষীপুর জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতির মামলা রয়েছে।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..