সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে নারী ও শিশুদের উপর ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ, হত্যা ও নৃশংস নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন উত্তরা পূর্ব শাখা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই ভয়াবহ খবর প্রমাণ করছে যে, সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন উত্তরা পূর্ব শাখার আহ্বায়ক ইব্রাহিম সিকদার বলেন, সম্প্রতি নরসিংদীর মাধবদীতে এক কিশোরীকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মাত্র সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করার ঘটনা দেশে গভীর শোক ও নিন্দার সৃষ্টি করেছে। রাজধানীতে হাজারীবাগে শিক্ষার্থীর উপর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে নারীদের উপর হেনস্থা সব মিলিয়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি স্পষ্ট করছে। ইব্রাহিম সিকদার আরও বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করেছে। রাষ্ট্র ও প্রশাসন যদি দ্রুত, সুষ্ঠু ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তাহলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন, আবাসিক এলাকা ও জনসমাগমস্থলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব।
তিনি দাবী করেন:
১. উল্লিখিত সকল ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। ২. বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে, যাতে অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। ৩. ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ৪. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহনে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৫. সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে নারী বিদ্বেষী মনোভাব নির্মূলের প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করতে হবে।
ইব্রাহিম সিকদার বলেন, আমরা চাই, প্রতিটি নারী ও শিশু যেন স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে। তাদের নিরাপত্তা ও সম্মান আমাদের সমাজের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি অপরাধের বিরুদ্ধে অঙ্গীকারবদ্ধ হোন এবং ন্যায়বিচারের জন্য সোচ্চার থাকুন।