অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো নারীরা সাংবাদিকতায়ও পুরুষতান্ত্রিক নানা বৈষম্য ও হেনস্তার শিকার হন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ।
আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাপ্তাহিক পঙক্তির দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।হাসান হাফিজ বলেন, ‘নারীরা অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও পুরুষতান্ত্রিক নানা বৈষম্য ও হেনস্তার শিকার হন। আমরা দেখছি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও নারীরা-শিশুরা লাঞ্ছিত ও নিপীড়িত হচ্ছে, এটি লজ্জার বিষয়।আমরা এমন সমাজ চাই না; আমরা চাই একটি সত্যিকারের বৈষম্যমুক্ত সমাজ, যেখানে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত থাকবে।’সম্পাদক বলেন, ‘আমরা আশা করব, পঙক্তি আরো এগিয়ে যাবে এবং আরো বৃহত্তর পরিসরে তার অবদান রাখবে। বাংলাদেশের নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে পঙক্তি আরো বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে, এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।’
প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা বর্তমানে একটি সাংস্কৃতিকভাবে খারাপ সময় পার করছি।একটি নতুন রাজনৈতিক আন্দোলন বারবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। সর্বক্ষেত্রে যে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে, তাতে একমাত্র একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লবই আমাদের জাতিকে রক্ষা করতে পারে।’ কবি ও কলামিস্ট সোহরাব হাসান বলেন, ‘ফেসবুক-ইউটিউবের যুগে একটি সাহিত্য পত্রিকা টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন কাজ। বর্তমানে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এক ধরনের বৈরী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।আক্রান্ত হচ্ছে মাজার, দরগাহ, শিল্পী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক তৎপরতা। এই আক্রমণ জাতিসত্তার ওপর আক্রমণ, আমাদের শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সুকুমার ভিত্তির ওপর আঘাত। এর বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে লড়াই করতে হবে।’তিনি আরো বলেন, ‘ষাটের দশকে রাজনৈতিক আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন একত্রিত হয়েছিল বলেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। এখন সময় এসেছে নতুন এক সাংস্কৃতিক জাগরণের।অনুষ্ঠানে কবি, লেখক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা পঙক্তির সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্নাকে অভিনন্দন জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন ‘পঙক্তি’ ভবিষ্যতেও সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চায় অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..