বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া বশরী হলে গত এক সপ্তাহ ধরে তীব্র পানির সংকট চলছেট্যাংকিতে পানি না থাকায় গোসল থেকে শুরু করে খাওয়ার পানিও মিলছে না। শিক্ষার্থীরা বলছেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম কাজই হচ্ছে পানি খোঁজা। হলের শিক্ষার্থী সাথী আক্তার বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে মোটর কাজ করছে না। খাওয়ার পানি আনতে হয় পাশের হল থেকে।ওয়াশরুমে পানি না থাকায় ভোগান্তি চরমে উঠেছে। প্রশাসনকে জানালে শুধু আশ্বাসই পাই।’ শিক্ষার্থীরা জানান, দুইটি মোটর দিয়ে পাঁচতলা ভবনের ১২টি ট্যাংকি ভর্তি করতে হয়। কিন্তু সিট সংখ্যা বেশি হওয়ায় চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।রাবেয়া বশরী হল ও কবি সুফিয়া কামাল হলের সামনের রাস্তা রাত নামলেই অন্ধকারে ঢেকে যায়। লাইট নষ্ট হলেও তা ঠিক হতে সপ্তাহ লেগে যায়। শিক্ষার্থী শেখ সামিরা বলেন, ‘রাতে হলে ফিরতে ভয় লাগে। রাস্তার পাশে ময়লার স্তূপ, কুকুর ঘোরে, মনে হয় কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে। আলো না থাকায় ভয়টা আরো বাড়ে।এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, মাঝেমধ্যে অনুমতি ছাড়া বহিরাগতরা হলে ঢুকে পড়ে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন তারা। ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল থাকায় অনলাইন ক্লাস ও গবেষণার কাজেও সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে, তাপসী রাবেয়া বশরী হলে মাত্র দুইজন ক্লিনার থাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। করিডরে ধুলো, বাথরুমে নোংরা পানি, আর পাশের ময়লার স্তূপ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে নাক চেপে চলতে হয় শিক্ষার্থীদের।
তিনি আরো জানান, ভিসি স্যার সরেজমিনে এসে পরিস্থিতি দেখেছেন। আশা করছি দুই-তিন দিনের মধ্যেই সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রশাসনের এমন আশ্বাস তারা বহুবার শুনেছেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। ফলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই হলের ছাত্রীদের দিন কাটছে একরাশ দুশ্চিন্তা আর হতাশার মধ্যে।