বরিশালের উজিরপুরে খাস জমি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। উপজেলার হারতা ইউনিয়নের জামবাড়ি বাজার থেকে হারতা বাজার পর্যন্ত চলছে এই দখলবাজি। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নে হারতা মৌজায় ১৬ দশমিক ৮৫ একর জমি অধিগ্রহণ করে পাউবো। ১৯৮৮ সালে সেখানে মাটি ভরাট করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়।এটি সাতলা-বাগধা সেচ প্রকল্প নামে পরিচিত। আওয়ামী লীগের শাসনামলে ওই জমি দখল করা শুরু করেন দলটির স্থানীয় নেতারা। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দখলদার পরিবর্তন হয়।এলাকাবাসী জানায়, দখল করা জমিতে সম্প্রতি বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু করেন আজিজুল সরদার নামের এক প্রভাবশালী।তিনি ইতালি থাকেন। তাঁর স্বজনরা ক্রয়সূত্রে জমির মালিকানা দাবি করছেন। আজিজুলের পথ ধরে আরো কয়েকজন প্রভাবশালী যোগ দেন দখলদারিত্বে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,ম আজিজুল সরদারের দখল করা জমির পরিমাণ ২৭ শতাংশ।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, প্রভাব খাটিয়ে ভবন নির্মাণের বিষয়টি এলাকাবাসী পাউবোকে একাধিকবার জানিয়েছেন। কিন্তু কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়েও পদক্ষেপ নেননি।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফিরোজ হাওলাদার নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা গত ৫ আগস্টের পর পাউবোর জমিতে দোকানঘর তুলেছেন সাতটি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যস্ততা দেখিয়ে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকেন তিনি। এ ছাড়া অহিদ হোসেন নামের এক বাসিন্দা দোতলা ভবন নির্মাণ করেছেন পাউবোর জমিতে।সেখানে ভাই ভাই হোটেল নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে অহিদও বক্তব্য দিতে রাজি হননি। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে হারতা বাজারের উত্তর ও দক্ষিণপাড়, সন্ধ্যা নদীর শাখা খালের পাশের বেশিরভাগ জায়গা, বাজারের চান্দিনা ভিটি (খাসজমি) ও পাউবোর জমিতে বসতবাড়ি, দোকানঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা দেখা গেছে। অনেকে বালু ও মাটি দিয়ে ভরাট করে বহুতল পাকা ভবনও নির্মাণ করেছেন। এক বছর আগেও জামবাড়ি বাজার থেকে হারতা বাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশ ছিল ফাঁকা। এখন সেখানে ঘরবাড়ি, পাকা স্থাপনা। সাইনবোর্ড টানিয়ে যে যার মতো করে দখল করছেন। পাউবোর জমিতে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে জানতে ইতালি প্রবাসী আজিজুল সরদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি। আজিজুলের ভাতিজা আসাদ সরদারের দাবি, তাঁর চাচা ২৭ শতাংশ সম্পত্তি ৩৮ লাখ টাকায় কিনেছেন। পাউবোর জমি কেনা যায় কিনা, জানতে চাইলে জবাব না দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।পাউবো কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দখলদারদের নামে রেকর্ড বাতিলে মামলা করেছেন তাঁরা।উজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মণ্ডলের ভাষ্য, তারা হারতা বাজারের চান্দিনা ভিটির তালিকা সংগ্রহ করছেন। অবৈধ দখলদারের চিহ্নিত করা শেষ হলেই উচ্ছেদে অভিযান চালাবেন। বরিশাল জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবালও বলেন, হারতা সেচ প্রকল্পের জন্য পাউবো ১৬ দশমিক ৮৫ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে ১৪ দশমিক ৮৫ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন হিসেবে রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন দখলদাররা। এখন পাউবোর নামে রেকর্ড রয়েছে দুই একর জমি। দখলদারদের রেকর্ড বাতিলের জন্য জোনাল সেটেলমেন্টে পাউবোর পক্ষ থেকে মামলা হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘বাঁধের জমিতে নির্মাণ করা অবৈধ স্থাপনার তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। শিগগিরই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..