পৃথিবীর অন্যতম জটিল ও সবচেয়ে লম্বা সময় ধরে অনুষ্ঠিত হওয়া পরিক্ষাগুলোর একটি ‘সুনেউং’। সকাল ৮টা ১০ মিনিটে শুরু হয়।টানা সাড়ে ৮ ঘণ্টা শেষ হয় বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে। তবে দৃষ্টিপ্রতিবন্দী শিক্ষার্থীদের আরো সময় বাড়িয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করা হয়। সব মিলিয়ে পরীক্ষার সময় ১৩ ঘণ্টায় দাঁড়ায়।এই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবন ও ক্যারিয়ার।তাই পরীক্ষার সময় যেন কোনো ধরনের শব্দ শিক্ষার্থীদের মনোযোগে ব্যাঘাত না ঘটায়, এই জন্য সরকার এবং নাগরিক সবাই একযোগে এই বিশেষ নীরবতা পালন করে। এই বছরের পরীক্ষাকে ঘিরে এতো সমালোচনা হয়েছে যে, পরীক্ষার প্রধান কর্মকর্তা ও সুনেউং প্রধান ওহ সিউং-গিওল পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রশ্নগুলো অতি জটিল হয়েছিল, এই সমালোচনা তারা আন্তরিকভাবে মেনে নিচ্ছেন।’ তিনি আরো জানান, অনেকবার ঠিকঠাক করার পরও পরীক্ষা প্রত্যাশা মতো হয়নি।এবারের পরীক্ষায় সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলোর একটি ছিল দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের আইন-দর্শন নিয়ে। আরেকটি কঠিন প্রশ্ন ছিল গেমিং সংক্রান্ত জটিল শব্দ দিয়ে তৈরি। সেখানে শিক্ষার্থীদের ঠিক করতে হয় একটি বাক্য অনুচ্ছেদের কোন জায়গায় বসবে। তিন নম্বরের এই প্রশ্নটি অনেক শিক্ষার্থীকে বিভ্রান্ত করেছে। এর সঠিক উত্তর ছিল—বাক্যটি তৃতীয় স্থানে বসবে।অনেকে বলেছেন, প্রশ্নগুলোর ভাষা খুব জটিল। কারো মতে, লেখাগুলো অতিরিক্ত ঘুরিয়ে বলা এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে কঠিন, তাই সহজে বোঝা যায় না। শিক্ষার্থীদের ৭০ মিনিটে ৪৫টি প্রশ্ন সমাধান করতে হয়। এ বছর মাত্র ৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী ইংরেজি অংশে সর্বোচ্চ গ্রেড পেয়েছে। গত বছর ছিল ৬ শতাংশ।
অন্যদিকে কিছু অধ্যাপক মনে করেন, কঠিন প্রশ্ন দেওয়ার কারণ হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় বোঝার ক্ষমতা যাচাই করা। সুনেউং পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিনে দক্ষিণ কোরিয়ার পুরো দেশ প্রায় থেমে যায়। নির্মাণকাজ বন্ধ থাকে, বিমানের ওঠানামা কমানো হয়, এমনকি সামরিক প্রশিক্ষণও বন্ধ থাকে—শুধু যেন কোনো শব্দ পরীক্ষার্থীদের বিরক্ত না করে।
১৯৯৩ সালে শুরু হওয়া এই পরীক্ষার ১২ জন প্রধানের মধ্যে মাত্র চারজনই পুরো মেয়াদ শেষ করেছেন। তবে পরীক্ষার কঠিনতার কারণে পদত্যাগ করা প্রথম প্রধান হলেন ওহ সিউং-গিওল।