এ আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, বিড়ি উৎপাদন সংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল করে একীভূত আইন প্রণয়ন, ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ ইমাজিং তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও সংযোজন
‘তামাকজাত দ্রব্য’-এর সংজ্ঞা সম্প্রসারণ
তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞায় ই-সিগারেট, Electronic Necotin Delivery System (ENDS), Heated Tobacco Product(HTP), নিকোটিন পাউচসহ সব উদীয়মান পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।সরকার এরূপ যেকোনো পণ্যকে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। এ ছাড়াও, ‘নিকোটিন’ ও ‘নিকোটিন দ্রব্য’-এর পৃথক সংজ্ঞা সংযোজনসহ ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
সব পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘনের অপরাধে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের আশপাশে বিক্রয় নিষিদ্ধ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ই-সিগারেট ও উদীয়মান তামাকপণ্য নিষিদ্ধ
উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। বিধান লংঘনে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
আসক্তিমূলক দ্রব্য মিশ্রণ নিষিদ্ধ
তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে কোনো ক্ষতিকর আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিধান রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ও স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং
প্যাকেটের ৭৫% জায়গাজুড়ে রঙিন ছবি ও সতর্কবাণী বাধ্যতামূলক স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শাস্তি ও প্রয়োগ জোরদার
জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি, কম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল ও মালামাল জব্দের বিধান রাখা হয়েছে এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধান সন্নিবেশ করা হয়েছে।