রুবেন আমোরিম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে মাত্র ৪৪টি গোল করা ইউনাইটেডকে নতুন রূপ দিতে চান তিনি। সেই লক্ষ্যেই সেসকো, মাতেওস কুনিয়া ও ব্রায়ান এমবেউমোর মতো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের এনেছেন ক্লাবে।
তবে মিডফিল্ড? সেখানেই আছে বড় ফাঁক। একজন বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার যে বড় প্রয়োজন ইউনাইটেডের।
সেসকো হবেন মূল স্ট্রাইকার। বাঁয়ে কুনিয়া, ডানে এমবেউমো।
কিন্তু ব্রুনো মানেই তো একটু স্বাধীনতা, একটু বেশি বলের কাছে থাকা, একটু বেশি আক্রমণ তৈরি করা। ৩০ বছর বয়সী পর্তুগিজ মিডফিল্ডারকে কি আপনি বিপদ আঁচ করতে পারা, জায়গা বুঝে ছুটে যাওয়ার মতো খেলোয়াড় ভাবেন?
আমোরিম অবশ্য সেটা মানতে নারাজ। শিকাগোয় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ব্রুনো দৌড়ায়, অনেক দৌড়ায়।হয়তো ও স্প্রিন্টার না, কিন্তু দারুণ স্ট্যামিনা আছে ওর। বুদ্ধিমান খেলোয়াড়, শারীরিকভাবেও প্রস্তুত।’
তবে যদি সব ঠিকই থাকে, তাহলে কেন বালেবার ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছে ক্লাব? উগার্তে, মেইনু ও ক্যাসেমিরো—কিন্তু ফার্নান্দেসের পাশে উপযুক্ত কে?
ম্যানুয়েল উগার্তে নামটি সবার আগে আসে। কিন্তু পিএসজি থেকে ৫০.৮ মিলিয়নে আনা এই মিডফিল্ডার এখনো তেমন কিছু প্রমাণ করতে পারেননি। ইউরোপা লিগ ফাইনালে বেঞ্চেই ছিলেন।তবে ক্যাসেমিরো আছে তার জায়গায়, অভিজ্ঞ ব্রাজিলিয়ান জানেন কীভাবে মাঝমাঠ সামলাতে হয়। কিন্তু ৩৩ বছর বয়সে তার গতি আগের মতো নেই, আর রিয়ালে তো তিনি মডরিচ-ক্রুসের সঙ্গে খেলতেন—যাঁরা নিজেরাই ভুল কম করতেন।
অবশ্য ইউনাইটেড দলে ২১ বছর বয়সী টবি কোলিয়ারের মতো খেলোয়াড় আছেন, যিনি এই ভূমিকায় মানানসই। কিন্তু তাকে কি ক্যাসেমিরোর ওপর প্রাধান্য দিয়ে নিয়মিত খেলানো সম্ভব? ক্লাবও তাকে হয়তো এই গ্রীষ্মেই লোনে পাঠাবে।
তাহলে কি আবারও মিডফিল্ডারের খোঁজে বাজারে নামবে ইউনাইটেড?
ভেতরের কেউ যদি না পারফর্ম করে, তাহলে তো বাইরে তাকাতেই হবে। যদিও সেসকোকে কিনতে ইউনাইটেড বিক্রি করতে হয়নি কাউকে, তবু সামনের প্রফিট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি আইনের দিকেও নজর রাখতে হবে ক্লাবকে।
এর মধ্যে আবার ‘বম্ব স্কোয়াড’ নামে পরিচিত কিছু খেলোয়াড়কে বিক্রি করাও জরুরি। আলেহান্দ্রো গারনাচো, অ্যান্টনি, জাডন সানচো ও টাইরেল মালাসিয়া—এরা ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নেই, আলাদা অনুশীলন করছেন।গারনাচোর সঙ্গে চেলসির কথাবার্তা চলছে, তবে বাকিদের ক্ষেত্রে চুক্তি করতে সময় লাগবে। হয়তো আগস্টের শেষদিকে এসব চুক্তি হবে।
বালেবা—মূল টার্গেট নাকি স্রেফ চেষ্টা?
বালেবা ঠিক সেই ধরনের মিডফিল্ডার যাকে প্রয়োজন আমোরিমের ইউনাইটেডে। বয়স মাত্র ২১, শক্তি-গতি-ট্যাকল-ডিস্ট্রিবিউশনে দারুণ। কিন্তু ব্রাইটনের চাওয়া বিশাল—চেলসির মোইসেস কাইসেডোর মতো ১১৫ মিলিয়নের কাছাকাছি।
তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—এত বড় অঙ্ক খরচ করার সামর্থ্য কি আছে ইউনাইটেডের?
সব মিলিয়ে আক্রমণভাগে নজর কাড়ার পরও মিডফিল্ড যেন হয়ে উঠছে রুবেন আমোরিমের ইউনাইটেডে সবচেয়ে জটিল ধাঁধা। সেই ধাঁধার সমাধান কি বালেবা? নাকি কাউকে বিক্রি করে নতুন চমক আনবে ইউনাইটেড?