বরিশাল নগরের রূপাতলীতে সোনারগাঁও টেক্সটাইলে দুই শ্রমিক নেতাকে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিনভর উত্তাল ছিল কারখানা চত্বর। কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শেষে সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়ে সড়কে।
পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করলে দুই পাশে কয়েক শ যানবাহন আটকা পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
প্রায় আধা ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।শ্রমিকদের অভিযোগ, ট্রেড ইউনিয়ন করায় কারখানার শ্রমিকনেতা ও ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন এবং সহসাধারণ সম্পাদক খুকু মণিকে ছাঁটাই করেছে সোনারগাঁও টেক্সটাইল কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্র যেখানে শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার দিয়েছে, সেখানে মালিক পক্ষের এমন আচরণ অমানবিক ও অগণতান্ত্রিক। দ্রুত তাদের কাজে ফিরিয়ে না নেওয়া হলে আরো কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা।
ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক নেতা মোশাররফ হোসেন জানান, ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে মৌখিক অনুমতি নিয়ে তারা শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়েছিলেন। ফিরতে দেরি হওয়ায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এরই জেরে আমাদের অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে। দ্রুত চাকরি ফেরত না পেলে আন্দোলন জোরদার করার কথাও জানান।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলা সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন করা শ্রমিকদের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে সোনারগাঁও টেক্সটাইল কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ছাঁটাই ও নিপীড়নের পথ নিয়েছে। অবিলম্বে চাকরিচ্যুত দুই শ্রমিক নেতাকে কাজে ফিরিয়ে নিতে হবে। নইলে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, উপস্থিত বাসদ নেতার সঙ্গে কথা বলে রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলে আন্দোলনকারীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সরে যান।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..