বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং পরিচালনা পর্ষদের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
আজ (রবিবার) উত্তরাস্থ বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের বিভিন্ন দিক, বাংলাদেশের জ্বালানিখাতে মার্কিন বিনিয়োগ, শ্রম সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মার্কিন প্রতিনিধি দলে ছিলেন লেবার অ্যাটাশে লীনা খান, এগ্রি অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট, কমার্শিয়াল অ্যাটাশে পল ফ্রস্ট, পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক অফিসার শ্রীনি সীতারাম এবং সাইফুজ্জামান মেহরাব শ্রম বিষয়ক বিশেষজ্ঞ।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে বিজিএমইএ এর পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মোঃ রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সালাম, পরিচালক নাফিস- উদ- দৌলা, পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম, পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান, পরিচালক জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম এবং সাবেক পরিচালক আ.ন.ম. সাইফ উদ্দিন।
আলোচনায় বিজিএমইএ এর পক্ষ থেকে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাকে শুল্ক ছাড় এর মেকানিজম সম্পর্কে স্পষ্টীকরণের অনুরোধ জানানো হয়। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন যে, এই উদ্যোগ দুই দেশের পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ বর্তমানে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এবং বাংলাদেশই প্রথম দেশ হিসেবে এই বিশেষ সুযোগটি পেয়েছে। তিনি আশা করেন, এতে করে যক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে তুলা রপ্তানি বাড়বে।
আলোচনাকালে বিজিএমইএ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন ট্যারিফ বা শুল্ক পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ব্যবসায়িক বিভ্রান্তির বিষয়টি রাষ্ট্রদূতের নজরে আনেন। এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন ব্যাখ্যা করে বলেন যে, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ের প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রদূত আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, খুব দ্রুতই এই জটিলতার সুরাহা হবে এবং শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প খাতের চাহিদা মেটাতে জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদী সমাধান হিসেবে এলএনজি অবকাঠামোখাতে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধানে দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে মার্কিন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ প্রয়োজন।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদী ও স্থিতিশীল জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করা হলে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা এ খাতে এগিয়ে আসতে আগ্রহী হবে।
বৈঠকে শ্রম আইন ও নতুন অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্কে শ্রম খাতের সংস্কার একটি দীর্ঘস্থায়ী ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বিজিএমইএ সভাপতি জানান যে, ১৪৫টি নির্দিষ্ট পয়েন্ট নিয়ে প্রস্তাবিত শ্রম অধ্যাদেশ সম্পর্কে আলোচনা চলছে এবং স্বচ্ছতার স্বার্থে কিছু বিষয়ে আরও স্পষ্টীকরণ প্রয়োজন।
পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ভিসা বন্ড শিথিল করা এবং দীর্ঘমেয়াদী ভিসা প্রদানের বিষয়েও বিজিএমইএ এর পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বৈঠকে বিজিএমইএ এর পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ বাংলাদেশে ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) অধীনে বাংলাদেশে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ‘লিড’ সার্টিফাইড কারখানা গড়ে ওঠার বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন যে, বাংলাদেশে এই খাতের টেকসই উন্নয়নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। জবাবে রাষ্ট্রদূত এই লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন।
বৈঠকে বিজিএমইএ এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষই দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।