স্বাধীনতার পর থেকেই ধীরে ধীরে ফ্রান্সে বসতি গড়ে তুলতে শুরু করেন বাংলাদেশিরা। তবে ফরাসি ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে দূরত্ব থাকায় দুই হাজার সালের আগে পর্যন্ত ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটি তেমন বিস্তৃত হয়নি।
ওই সময় ফ্রান্সে আগত প্রবাসীরা জীবিকার সহজ কোনো পথ না পেয়ে বাধ্য হয়ে ফুটপাতে অনুমোদনহীন ব্যবসা করতেন। এতে পুলিশি হয়রানি ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো তাদের।২০০৯ ও ২০১০ সালের দিকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেও বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের বৈধতা এবং টিউশন ফি–সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে অনেকেই পরবর্তীতে ফ্রান্সে চলে আসেন। সেই থেকে শুরু হয় বাংলাদেশিদের ফ্রান্সে স্থায়ী হওয়ার ধারা। রাজনৈতিক আশ্রয়, চাকরির সুযোগ, সন্তানদের পড়াশোনা ও পরিবার পুনর্মিলনের পথ ধরে দিন দিন বড় হতে থাকে এই কমিউনিটি।জানা যায়, বর্তমানে ইল-দ্য-ফ্রন্সসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন বড় শহরে বাংলাদেশিরা গড়ে তুলেছেন নানা ব্যবসা-বাণিজ্য।এসব ব্যবসার মধ্যে রেস্টুরেন্ট, পাইকারি ও খুচরা মোবাইল ও ইলেকট্রনিকস পণ্য বিক্রি, মানি ট্রান্সফার এবং ট্রাভেল এজেন্সি উল্লেখযোগ্য। এসব উদ্যোক্তা কার্যক্রম শুধু প্রবাসীদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আনছে না বরং ফরাসি মূলধারার সমাজেও বাংলাদেশিদের অবস্থান শক্ত করছে।তবে পথচলা এতটা সহজ নয়। নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের।প্যারিসের উনিশ আরোঁদিসমঁ-এ অবস্থিত ‘পিজ্জা দেল পারকো’ রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ইমরান আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা প্রাথমিকভাবে ফরাসি ভাষায় অদক্ষতা, ব্যবসায়িক আইন-কানুন সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং কর্মী নিয়োগে সীমাবদ্ধতার মতো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন। সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য আমাদের নেতিবাচক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হবে।’অন্যদিকে, প্যারিসের দশ আরোঁদিসমঁ এ সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘এইড পয়েন্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা ফয়সাল মাহমুদ মনে করেন, ফরাসি সমাজে কোন সেবা বা পণ্যের চাহিদা রয়েছে সে সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই অনেক উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। সমাজ-সংস্কৃতি ও রুচিবোধ বুঝে ব্যবসা শুরু করাই মূল চাবিকাঠি। এজন্য ভাষাগত দক্ষতা অর্জন ও প্রায়োগিক অভিজ্ঞতা নেওয়া জরুরি।ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল মিনিস্টার মো. মিজানুর রহমান জানান, ভাষাগত সীমাবদ্ধতা, স্থানীয় আইন-কানুন সম্পর্কে অজ্ঞতা, অর্থায়নের ঘাটতি ও তথ্যের অভাব—এসবই বাংলাদেশিদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথে বড় অন্তরায়। তবে এসব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। ফরাসি ভাষা শেখা, ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ, চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমেই সাফল্যের পথ প্রশস্ত হতে পারে।তিনি বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস উদ্যোক্তা হতে আগ্রহীদের নিয়মিত দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়ে আসছে। ভবিষ্যতে সেমিনার, কর্মশালা ও ব্যবসায়িক সংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে কমিউনিটিতে আরো উদ্যোক্তা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে।







