যুদ্ধবিধ্বস্ত মায়ানমারে সেনাবাহিনী পরিচালিত নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রোববার ভোটগ্রহণ চলছে। তবে প্রথম ধাপের কম ভোটার উপস্থিতি এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অনুপস্থিতির কারণে এই নির্বাচন ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত বেসামরিক সরকার উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে মায়ানমারের সেনাবাহিনী। অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ও দেশটির তৎকালীন নেত্রী অং সান সু চি।
এর পর থেকেই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। প্রায় ৫ কোটি ১০ লাখ মানুষের এই দরিদ্র দেশটি বর্তমানে গভীর রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটে রয়েছে।
২০২০ সালের নির্বাচনে ভূমিধস জয় পাওয়া অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)সহ জান্তাবিরোধী বহু রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। নতুন নির্বাচনী আইনে নিবন্ধন না করায় এসব দলকে বাতিল ঘোষণা করা হয়।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বড় অংশও এই নির্বাচন বর্জন করেছে।
জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশগুলো এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, প্রকৃত বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের মতে, এটি মূলত সামরিক জান্তাশাসনকে বৈধতা দেওয়ার একটি কৌশল।
গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপে নিম্নকক্ষের ১০২টি আসনের মধ্যে ৯০টিতে জয় পেয়েছে সেনাবাহিনী-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)।
ওই ধাপে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ৫২ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা ২০১৫ ও ২০২০ সালের নির্বাচনের তুলনায় অনেক কম।
ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র মায়ানমার উপদেষ্টা রিচার্ড হর্সি বলেন, ‘ইউএসডিপির বড় জয় মোটেও আশ্চর্যের নয়। নির্বাচনী মাঠ সম্পূর্ণভাবে তাদের পক্ষে ঢেলে সাজানো হয়েছে। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাদ দেওয়া এবং বিরোধিতা দমনে কঠোর আইন প্রণয়ন এরই অংশ।’
আগামী ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ধাপ।
মোট ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ২৬৫টিতে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে কিছু এলাকা এমনও আছে, যেখানে জান্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।