মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের জড়িত একটি মানবপাচার চক্রের সন্ধান ও সদস্যদের গ্রেফতার করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ।
অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে প্রধান গেট ও দরজা ভাঙতে হয়। পরে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ২৭ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়, যাদের অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় আনা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা তিনদিন আগে একটি প্রতিবেশী দেশে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে অবৈধভাবে তাদের মালয়েশিয়ায় আনা হয়। একইসঙ্গে আরও তিনজন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা এই সিন্ডিকেটের সদস্য এবং ট্রানজিট ঘরের তদারককারী হিসেবে কাজ করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তে জানা গেছে, সিন্ডিকেটটি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সক্রিয় রয়েছে। তারা তৃতীয় দেশের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় এনে কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করায় এবং পরে ক্লাং ভ্যালিতে এনে বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠিয়ে দেয়। প্রতি অভিবাসীর কাছ থেকে প্রায় ৮,০০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত আদায় করা হতো। এ পর্যন্ত সিন্ডিকেটটি প্রায় ২৪ লাখ রিঙ্গিত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
আটক অভিবাসীদের বয়স ২০ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। তাদের পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে এবং মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারবিরোধী আইন ২০০৭ (অপটিজম) অনুযায়ী তদন্ত চলছে।
মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬, ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ এবং অপটিজম আইনের আওতায় যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।