মুক্তিপণের বিনিময়ে জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন সুন্দরবনে অপহরণের শিকার ১৪ জন জেলে। গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত থেকে পরদিন মঙ্গলবারের মধ্যে বাড়িতে ফেরেন তারা। তবে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় জলদস্যুদের কবলে রয়েছেন এখনো ছয়জন জেলে।বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন থেকে অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যান জেলেরা।গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মামুন্দো, চুনকুড়ি ও মালঞ্চ নদীসহ কলাগাছিয়া খাল থেকে অস্ত্রের মুখে ২০ জন জেলেকে অপহরণ করে ‘ডন’ বাহিনী নামের জলদস্যুরা।মুক্তি পাওয়া জেলেরা জানান, অপহরণের পর বিকাশ নম্বর দিয়ে দস্যুরা মুক্তিপণের টাকা দাবি করে। দীর্ঘ আলোচনা ও দর-কষাকষির পর নির্ধারিত মুক্তিপণ পরিশোধ করলে জলদস্যুরা জেলেদের ছেড়ে দেয়। তারা জনপ্রতি ২৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ আদায় করেছে।ফিরে আসা জেলেদের মধ্যে আবু তাহের ৩৫ হাজার, আবুল কালাম ৩৫ হাজার, মো. ইব্রাহিম ৪০ হাজার, আইয়ুব আলী ২৫ হাজার, দিলীপ ৪০ হাজার, উজ্জল পাড় ৪০ হাজার, সাদেক আক্কাস ৩০ হাজার, ইউসুফ আলী ৪০ হাজার, আশিকুর ২৫ হাজার ও হাফিজুর ২৫ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তারা জানান, জিম্মি অবস্থায় তারা চরম ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটান। পর্যাপ্ত খাবার ও বিশ্রামের অভাব ছিল এবং সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়েছে। তবে মুক্তির পর পরিবারের কাছে ফিরে আসতে পেরে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন।জেলেদের অভিযোগ, মুন্সিগঞ্জ মৌখালী গ্রামের সফিকুল ওরফে ‘ভেটো সফিকুল’ এবং আটিরউপর গ্রামের শাহাজান এই দস্যু দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এখনও ছয়জন জেলে দস্যুদের জিম্মায় রয়েছেন।সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ সহযোগী ফজলুল হক বলেন, অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছিল। ১৪ জন জেলে ফেরার খবর তাঁরা লোকমুখে জানতে পেরেছেন।শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, অপহরণের বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি।তবে অপহৃত কোনো জেলের পরিবার এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছে কিনা, সে বিষয়েও পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কিছু জানায়নি। বিষয়টা খোঁজ নিয়ে দেখছি।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..