একুশে বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষে ধ্রুবতারা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে ‘AI Dark & Light’। এই গ্রন্থটি কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) সম্ভাবনা, ঝুঁকি, নৈতিক ব্যবহার এবং অপব্যবহার রোধ সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ দিক নির্দেশনা দেবে।
বইটির লেখক মশিউর রহমান প্রান্ত বলেন, ‘এই বইটি কোনো তৎক্ষণাৎ উত্তরের খোঁজে লেখা নয়—এটি লেখা হয়েছে সময়ের একটু আগেই দাঁড়িয়ে। যেখানে বর্তমানের প্রশ্নগুলোকে ছাপিয়ে ভবিষ্যতের ছায়া স্পষ্ট হয়ে ওঠে।মানুষ চিরকালই ভালো থাকার আকাঙ্ক্ষায় অর্থের পেছনে ছুটেছে। সাধারণ জীবনে থাকলে আয়েশকে অপারগতা না ভেবে অপ্রয়োজনীয় ভেবে দূরে সরিয়ে রেখেছে, আবার সবকিছু হাতে এলে অজান্তেই সেই আয়েশ কিনে নিয়েছে টাকার বিনিময়ে। এই যাত্রাপথে প্রযুক্তি ছিল নীরব সঙ্গী—কখনো দৃশ্যমান, কখনো অদৃশ্য।’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই ধারাবাহিকতারই সর্বশেষ নয়, বরং সবচেয়ে গভীর বাঁক।প্রায় সাত দশক আগে কিছু গবেষকের চিন্তার বীজ আজ এমন এক বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে, যা ব্যবসা, সৃজনশীলতা ও মানবিক শ্রমের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছে। অথচ এই পরিবর্তনের মুহূর্তে আমরা দ্বিধায় দাঁড়িয়ে—কারণ শক্তির সঙ্গে এসেছে ভুল ব্যবহারের ভয়, নীতিহীন প্রয়োগের আশঙ্কা, আর ক্ষণস্থায়ী খ্যাতির নেশা।
এই বই এআইকে কোনো যন্ত্র হিসেবে দেখার তাড়াহুড়ো করে না। বরং সময় নিয়ে বোঝাতে চায়—এটি কীভাবে একটি যুগের মানসিকতা বদলে দিতে পারে।দায়িত্বহীন প্রয়োগে কীভাবে সমাজের ভেতর সূক্ষ্ম ক্ষয় শুরু হয়, আবার সঠিক জ্ঞানে কীভাবে একই প্রযুক্তি মানুষের পরিশ্রম কমিয়ে তাকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলে। এখানে প্রশ্ন আছে, সম্ভাবনা আছে, সতর্কতা আছে—কিন্তু আতঙ্ক নেই।
একটা উদাহরণ হিসেবে যদি বলি, আমরা চিত্রশিল্প শেখার ক্ষেত্রে শুধু আঁকাই শিখি না, শিল্পের ইতিহাস ও দায়ও বুঝে নিই—ঠিক তেমনই এই বই প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের আলোয় রেখে দেখার এক প্রচেষ্টা। আজকের নয়, আগামী দশ বছরের কথা ভেবে লেখা কিছু চিন্তা—যেগুলো ধীরে ধীরে পাঠকের ভেতর নিজের জায়গা করে নেবে। এটি শুধু একটি বই নয়, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও বাস্তবতার যোগসূত্রের এক গভীর চিন্তাভাবনার দলিল।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..