বিএনপি চেয়ারম্যান সবার জানমালের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, জলাবদ্ধতা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং চট্টগ্রামকে সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত করাসহ তাঁর দলের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।গতকাল দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল নির্বাচনি জনসভায় ‘জনরায় নিয়ে বিএনপি সরকারে গেলে’ তাদের পরবর্তী করণীয় কী হবে- সেসব পরিকল্পনার বর্ণনা দেন।বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, অপরাধী যেই হোক, আইনের দৃষ্টিতে তার পরিচয় অপরাধী। অপরাধীর বিরুদ্ধে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজেই দুর্নীতি যেই করুক, দুর্নীতি যারাই করুক, তাদের বিরুদ্ধে দেশের আইন একইভাবে প্রযোজ্য হবে।
পলোগ্রাউন্ডসহ চারপাশ লোকে লোকারণ্য : দীর্ঘ ২০ বছর পর চট্টগ্রামের কোনো রাজনৈতিক সমাবেশে যোগ দিলেন তারেক রহমান। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তিনি সমাবেশস্থলে প্রথমে অপেক্ষমাণ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন। পরে তিনি মঞ্চে ওঠেন। তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে ভোর থেকে মাঠে আসতে শুরু করেন নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। চট্টগ্রামের পাশাপাশি রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার থেকেও আসেন নেতা-কর্মীরা। সমাবেশ শুরু আগেই পলোগ্রাউন্ডসহ চারপাশ লোকারণ্য হয়ে যায়।
ফেনীতে মেডিকেল কলেজ ও ইপিজেড স্থাপনের আশ্বাস : ফেনী থেকে সিদ্দিক আল মামুন জানান, ফেনীতে একটি মেডিকেল কলেজ ও ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের প্রধান বাধা দুর্নীতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সবার আগে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। গতকাল ফেনী পাইলট হাই স্কুল মাঠে ফেনী জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব শেখ ফরিদ বাহারের সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও ফেনী-৩ আসনের মনোনীত প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঞা, জয়নুল আবেদীন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা নাকি দেশের মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছি। আমরা ধোঁকা দিতে যাব কেন? এ মানুষদের কাছে আমাদের আবারও আসতে হবে না? আমরা সরকারে ছিলাম। কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে। অনেকেই কয়েক দিন ধরে প্রচার চালাচ্ছেন, আমরা সরকারে গেলে একসঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড দেব। আমরা কিন্তু একবারও বলিনি এ কথা। আমরা আমাদের পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করব।
গতকাল রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা-১১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামরুল হুদা সভাপতিত্ব করেন।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার ছয়টি আসনে বিএনপির প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন প্রমুখ।
এ সমাবেশ ছাড়াও গতকাল রাতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজীতে এবং দাউদকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে দুটি সমাবেশ করেছেন।