রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) নবনির্মিত একটি স্মৃতিস্তম্ভকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন ও ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে ২৪-এর ছাত্র আন্দোলনকে উঁচুতে স্থান দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষার্থীদের একাংশ।
প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ স্মৃতিস্তম্ভটি একটি আয়তাকার দেয়ালের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি হিসেবে একটি দেয়াল ও বীরশ্রেষ্ঠদের স্মরণে ৭টি ফলক রাখা হয়েছে।
তবে সবার নজর কেড়েছে সবশেষে যুক্ত করা একটি ফলক, যা ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনকে প্রতীকায়িত করে। দেখা গেছে, ৫২ ও ৭১-র স্মৃতির চেয়ে ২৪-র আন্দোলনের ফলকটি আকারে বেশ বড় এবং উচ্চতায় অনেক ওপরে স্থাপন করা হয়েছে।
স্মৃতিস্তম্ভের নকশা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রাঙামাটির মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফুর রহমান। তিনি বলেন, এই স্মৃতিস্তম্ভের উচ্চতার মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করা হয়েছে।এ কাজের মাধ্যমে এটিই প্রমাণিত হলো যে তারা একাত্তরের মর্যাদাকে খাটো করতে চাইছে। আমরা আশা করি, এই মনুমেন্ট সংশোধন করে পুনরায় স্থাপন করা হবে এবং একাত্তরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এই নকশাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন। তাদের মতে, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে একাত্তরের অর্জনকে চব্বিশের আন্দোলনের সাথে তুলনা করে খাটো করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এই স্মৃতিস্তম্ভে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। একাত্তরকে বাদ দিয়ে এই দেশের অস্তিত্ব কল্পনা করা সম্ভব নয়। তাই একাত্তরের ইতিহাসের সাথে চব্বিশের আন্দোলনের তুলনা করা কোনোভাবেই মানানসই নয়।সমালোচনার মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) জানান, উচ্চতার মাধ্যমে এখানে কাউকে ছোট বা বড় করা হয়নি। বরং ২৪-র আন্দোলনের প্রতি সাধারণ মানুষের যে বিশাল ‘প্রত্যাশা’ রয়েছে, সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা প্রত্যাশার দিকটি বোঝাতেই ফলকটি উঁচুতে রাখা হয়েছে।
এটি মর্যাদার মাপকাঠি নয়, বরং আগামীর স্বপ্নের প্রতিফলন।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..