চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ অস্ত্র, গুলি বা বিস্ফোরকের প্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিবিজি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটসহ নিরাপত্তা বাহিনী। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এই অবস্থান আরো জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীগুলোর কর্মকর্তারা। সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচটি উপজেলার মধ্যে সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর এবং ভোলাহাট উপজেলা ভারত সীমান্তঘেষাঁ। এর মধ্যে রয়েছে নদী সীমান্ত ও কাঁটাতারের বেড়াবিহীনও কিছু এলাকাও।সীমান্তের চাঁপাইনবাবগঞ্জ অংশে মোতায়েন রয়েছে বিজিবির তিনটি পৃথক ব্যাটালিয়ন।বাহিনীগুলো সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তকে মাদক, অস্ত্রসহ বিভিন্ন পণ্য চোরাচালানের অন্যতম রুট হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও সাম্প্রতিককালে অস্ত্র উদ্ধারের তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। অতীতে বহু ঘটনা থাকলেও স্পর্শকাতর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র আসছে—এমন তথ্য কোনো বাহিনীর তরফে বা স্থানীয় কোনো সূত্রে জানা যায়নি। তবে সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেয়নি কেউ।বিগত ছয় সপ্তাহে দুটি ঘটনার কথা জানা গেছে।সূত্র মতে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর শিবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি ও র্যাবের যৌথ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি ও দুইটি ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়। তবে ওই ঘটনায় কেউ আটক হয়নি। এর আগে গত ২৪ আগস্ট সদর উপজেলা সীমান্তে সাত কেজি বিস্ফোরক (ককটেল বা হাতবোমা) তৈরির উপাদান জব্দ করে বিজিবি।ওই ঘটনায়ও কেউ আটক হয়নি। তবে এ ব্যাপারে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করে বিজিবি।চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সদর ও শিবগঞ্জের আংশিক সীমান্তে নজরদারি চলছে। অস্ত্র প্রবেশের যে কোনো চেষ্টা প্রতিহত করা হবে।’চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘ব্যাটালিয়ন আংশিক শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছে।কোনোক্রমেই অস্ত্র পাচার হতে দেওয়া হবে না। সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।’ নওগাঁ ব্যাটলিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘গোমস্তাপুর সীমান্তে ব্যাটালিয়ন কাজ করছে। সম্প্রতি এই সীমান্তে অস্ত্র চোরাচালানের কোনো তথ্য জানা যায়নি। তবে এ সংক্রান্ত নজরদারি কঠোর করা হবে।’র্যাব ৫ ব্যাটালিয়নের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্প কমান্ডার লে. (বিএন) সাঈদ মাহমুদ সাদান বলেন, ‘বিজিবির পাশাপাশি র্যাবও সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ঢুকছে কিনা, তা নজরদারি করছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলেই যথাযথ প্রক্রিয়ায় অভিযান চালানো হবে।’চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, ‘সীমান্তে অস্ত্র ঢোকার সাম্প্রতিক তেমন কোনো তথ্য বা ইঙ্গিত নেই। তবে জোর গোয়েন্দা নজরদারি চলছে।’
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..