হামলার পর অন্তত ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো উদ্ধারকাজ চলছে। পরিবার ও স্বেচ্ছাসেবকরা হাতে খুঁড়ে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে হয়তো ৫০ জনের মতো আটকা পড়েছেন।পরিবারের সদস্যরা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মানুষের আর্তনাদ শুনতে পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।একজন স্বজন বলেন, ‘আমি সমগ্র বিশ্বের কাছে আহ্বান জানাই, দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমাদের স্বজনরা জীবন্ত কবর হয়ে আছে। আমরা এখনো তাদের চিৎকার শুনতে পাচ্ছি কিন্তু কাছে যেতে পারছি না।তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, উদ্ধারকাজে নিয়োজিতদের ওপর ইসরায়েলি ড্রোন থেকে গুলি চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিবার আমরা কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলেই ইসরায়েলি ড্রোন গুলি চালায়। পাঁচজন চেষ্টা করলে চারজন মারা যান, একজন বেঁচে থাকেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ছোট গাড়িতে আহতদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এক মাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার সব সন্তানকে হারিয়েছি।ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজা সিটির পশ্চিমাংশের শাতি শরণার্থী শিবির এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তল আল-হাওয়া এলাকাও লক্ষ্যবস্তু হয়। নাসর জেলায় ল্যাভাল টাওয়ার ও তার পাশের একটি বাড়িতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন শিশু।এ হামলাটি জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর পরিচালিত একটি ক্লিনিকের কাছে ঘটেছে বলে জানিয়েছে জরুরি সূত্র। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার উদ্ধৃত চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, গতকাল রবিবার ভোর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন।গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার বিকেল পর্যন্ত গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে অন্তত ৬৫ হাজার ২৮৩ জন নিহত এবং ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭৫ জন আহত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি অবরোধজনিত ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৪৭ শিশু রয়েছে। এতে এ ধরনের মৃত্যুর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪০ জনে।রবিবারও ইসরায়েলি সেনারা বহু ভবন উড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সমালোচনা এবং গাজায় আটক ইসরায়েলি নাগরিকদের পরিবারের বিরোধিতা সত্ত্বেও, গাজা সিটি দখল ও স্থানীয়দের বাস্তুচ্যুত করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।ইসরায়েলি সেনাদের হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে গাজা সিটি থেকে অন্তত ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তবে গাজার কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রকৃত সংখ্যা ৩ লাখেরও কম এবং এখনো প্রায় ৯ লাখ মানুষ ওই এলাকায় রয়ে গেছেন।