তাদের মতে, এটি সহায়তা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য আলোচনাধীন বেশ কয়েকটি ধারণার মধ্যে একটি।বর্তমানে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় গাজায় আরো কিছু মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে পারছে। গত আগস্টে এক বৈশ্বিক ক্ষুধা পর্যবেক্ষণ সংস্থা সতর্ক করেছিল, গাজায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।রয়টার্সের দেখা প্রস্তাব অনুযায়ী, পরিকল্পনার মূল কাঠামো হবে তথাকথিত ‘গাজা মানবিক বেল্ট’।যার আওতায় গাজার ভেতরে ইসরায়েলি বাহিনী যে রেখা পর্যন্ত প্রত্যাহার করেছে, সেই রেখা বরাবর ১২ থেকে ১৬টি মানবিক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এই কেন্দ্রগুলো লাইনের উভয় পাশে থাকা মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।এই কেন্দ্রগুলোতে থাকবে স্বেচ্ছাসেবী পুনর্মিলন কেন্দ্র, যেখানে সশস্ত্র ব্যক্তিরা অস্ত্র সমর্পণ করে সাধারণ ক্ষমা পেতে পারবে। এ ছাড়া গাজাকে নিরস্ত্রীকরণে সহায়তার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনীর জন্য অগ্রণী ঘাঁটি হিসেবেও কিছু কেন্দ্র ব্যবহৃত হবে।
মার্কিন প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান অবস্থা
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবটি মূলত একটি ধারণাগত কাঠামো, যা সম্ভাব্য বিকল্পগুলো পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হবে কি না—তা এখনো নিশ্চিত নয়।
রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, তারা মঙ্গলবার নতুন বেসামরিক-সামরিক সমন্বয় কেন্দ্র (সিএমসিসি) উদ্বোধনের বিষয়ে আগের বিবৃতিতেই অবস্থান জানিয়েছে। হোয়াইট হাউস মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।
একজন মানবিক কর্মকর্তা জানান, নথিটি আসলে একটি সাদা কাগজ, মূলত তথ্যনির্ভর প্রস্তাবনা, কোনো আনুষ্ঠানিক নীতি নয়। যদি এই ধারণার ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়, তাহলে এটি হবে ‘জিএইচএফ-এর একটি নরম সংস্করণ’ বলেন ওই কর্মকর্তা।
প্রস্তাব অনুযায়ী, হাবগুলোতে থাকবে খাদ্য, পানি, ওষুধ এবং অন্যান্য সহায়তা সরাসরি বিতরণের নিরাপদ ডিপো। ছোট যানবাহনে গাজার গভীরে সরবরাহ পাঠানোর জন্য লজিস্টিক কেন্দ্র এবং পানি, বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন ও চিকিৎসা অবকাঠামো পুনর্গঠনের সুবিধা। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, জিএইচএফ-কে প্রতিস্থাপন করা হতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা মরক্কো রেড ক্রস ও সামারিটান’স পার্স (একটি খ্রিস্টান মানবিক সংস্থা)-এর যৌথ উদ্যোগে।
সামারিটান’স পার্সের মুখপাত্র স্টিফেন স্নিড বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা চলছে।’ জিএইচএফ-এর মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত কার্যক্রম চালানোর মতো তহবিল হাতে রেখেছে এবং যতদিন প্রয়োজন ততদিন সহায়তা অব্যাহত রাখবে। তবে সংস্থাটি তাদের চারটি বিতরণ কেন্দ্রের একটি ইতিমধ্যে বন্ধ করেছে, যা পরে গাজার অন্য এলাকায় পুনরায় খোলা হতে পারে।
এক পশ্চিমা কূটনীতিক জানিয়েছেন, অনেক ইউরোপীয় দেশ গাজায় জিএইচএফ-এর ভবিষ্যৎ ভূমিকার বিরোধিতা করছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস-এর মুখপাত্র জানান, সোমবার মার্কিন নেতৃত্বাধীন সিএমসিসি’র প্রথম বৈঠকে জাতিসংঘের সংস্থা, আন্তর্জাতিক সাহায্য গোষ্ঠী ও দাতারা অংশ নিয়েছিলেন।