কিশোরগঞ্জের ভৈরবস্থ শহীদুল্লাহ কায়সার কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শহীদুল্লাহ কায়সারের বিরুদ্ধে কলেজ ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষের বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মোঃ হেলাল মিয়া নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ১৩ অক্টোবর কলেজে এই তদন্তকার্য অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান অভিযোগসমূহ:
অভিযোগকারী মোঃ হেলাল মিয়ার দাখিলকৃত পত্রে প্রতিষ্ঠাতা শহীদুল্লাহ কায়সারের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
কলেজের জমি ও অর্থ আত্মসাৎ: ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটির প্রথম জায়গাটি বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর কাছে ৩ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। পরে পার্শ্ববর্তী মিরারচর এলাকায় মাত্র ২০ লক্ষ টাকায় নিম্নমানের জমি ক্রয় করে কলেজটি স্থানান্তর করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, বাকি অর্থ ও জনসাধারনের কাছ থেকে নেওয়া ডোনেশন আত্মসাৎ করা হয়েছে।
জোরপূর্বক ভূমি দখল: কলেজ স্থানান্তরের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযোগকারীর ব্যক্তিগত জমিও জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে।
অবৈধভাবে এমপিওভুক্তি: প্রতিষ্ঠাতার মেয়ে সায়েদাতুন্নেছা জ্যোতিকে প্রভাষক নিবন্ধন না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অসৎ উপায়ে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে।
শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ: দীর্ঘদিন বিনা বেতনে শিক্ষাদানকারী পুরাতন শিক্ষকদের বাদ দিয়ে এমপিওভুক্তির সময় নতুন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে প্রতি জনের কাছ থেকে ১০ লক্ষ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে।
বকেয়া বেতন আত্মসাৎ: পুরাতন শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতনের টাকার অগ্রিম চেক নিয়ে শহীদুল্লাহ কায়সার তা উত্তোলন করেছেন, যার সিসিটিভি ফুটেজ অগ্রণী ব্যাংক, ভৈরব বাজার শাখায় পাওয়া যাবে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর গ্রহণ: অভিযোগকারী আরও জানান, শিক্ষকরা যেন প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অভিযোগ না করতে পারে, সেজন্য তাদের কাছ থেকে ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে খালি স্বাক্ষর নিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তদন্তের নির্দেশ:
জেলা শিক্ষা অফিসারের স্মারকের প্রেক্ষিতে গত ০৭/১০/২০২৫ তারিখে ভৈরব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় থেকে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে একটি স্মারক জারি করা হয়েছে।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার স্বপ্না বেগম স্বাক্ষরিত ওই স্মারকে জানানো হয়, আগামী ১৩/১০/২০২৫খ্রি. তারিখ সকাল ১১.০০ ঘটিকায় শহীদুল্লাহ কায়সার কলেজের কার্যালয়ে এই তদন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
তদন্তে অংশগ্রহণের জন্য কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, অধ্যক্ষ এবং অভিযোগকারী মোঃ হেলাল মিয়াকে স্বপক্ষীয় কাগজপত্র ও প্রমাণাদিসহ উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে। বিশেষ করে, প্রভাষক সায়েদাতুন্নেছা জ্যোতির নিয়োগ সংক্রান্ত সকল কাগজপত্রসহ অধ্যক্ষকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
স্মারকের অনুলিপি প্রয়োজনীয় কার্যার্থে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়েও প্রেরণ করা হয়েছে।