বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের নামে গুপ্ত বা অপরাজনীতি চর্চার পক্ষে তিনি নন। তাঁর অভিযোগ, ‘ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের নামে কতিপয় ছাত্রসংগঠনকে প্রশাসন সহযোগিতা করছে।’
সিরাজুলের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নীতিমালার মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতি সক্রিয় রাখার ব্যবস্থা করা উচিত। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে সমাবেশ করেছে। কিন্তু অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠন প্রকাশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি, কারণ তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পায়নি।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন কোন পথে?
বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছাত্র রাজনীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবু পরপর দুটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রকাশ্য কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ বলছেন, এসব আয়োজনকে যদি প্রশাসন এখনই নিয়ন্ত্রণে না নেয়, তবে রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে ফের শুরু হতে পারে সংগঠনভিত্তিক প্রভাব বিস্তার, এমনকি সংঘাতও।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলছেন, ‘আমি বিষয়টি জানতাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক ব্যানারে কোনো কার্যক্রম করার অনুমতি নেই। আমরা কোনো সংগঠনকেই অনুমতি দেইনি। আমাদের অনুমতি ছাড়াই যারা কর্মসূচি পালন করেছে, মৌখিকভাবে তাদের সতর্ক করা হবে।’
এর আগে, চলতি বছরের ২১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবনের নিচতলায় ইসলামী ছাত্রী সংস্থা আয়োজন করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্প।
উপাচার্য অধ্যাপক তৌফিক আলম তখন বলেছিলেন, কিছু শিক্ষার্থী ফ্রি মেডিক্যাল দিতে চেয়েছিল, তাই মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা রাজনৈতিক ব্যানারে করবে, সেটা জানতাম না।