মুহূর্তের মধ্যে আগুনে পুড়ে যায় গাড়িটি। আশপাশের যানবাহন ও পথচারীরাও আহত হন। ডা. উমর নবি ২৯ অক্টোবর ফরিদাবাদের সোনু নামের এক গাড়ি বিক্রেতার কাছ থেকে গাড়িটি কেনেন। একই দিন তিনি গাড়িটির দূষণ নিয়ন্ত্রণ (পিইউসি) সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য বাইরে যান।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ‘রয়্যাল কার জোন’ নামের অফিসের পাশের পিইউসি বুথে গাড়িটি দাঁড়িয়ে আছে। পরে তিনি গাড়িটি নিয়ে আল-ফালাহ মেডিক্যাল কলেজে যান এবং সেখানে সহকর্মী ডা. মুজাম্মিল শাকিলের সুইফট ডিজায়ারের পাশে পার্ক করেন। তদন্তে জানা গেছে, এই শাকিলই সোমবার সকালে ‘বিস্ফোরক জব্দের’ ঘটনায় গ্রেপ্তার হন। তার গাড়ি নিবন্ধিত ছিল আরেক চিকিৎসক ডা. শাহিন সাঈদের নামে, যার গাড়ি থেকে পুলিশ একাধিক রাইফেল ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে।
২৯ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ওই গাড়িটি কলেজ প্রাঙ্গণেই পার্ক করা ছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। ১০ নভেম্বর সকালে সহযোদ্ধা ডা. মুজাম্মিল শাকিল ও ডা. আদিল আহমদ রাদার গ্রেপ্তারের খবরে নবি আতঙ্কিত হয়ে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। এরপর গাড়িটিকে কনট প্লেস ও মায়ূর বিহার এলাকায় দেখা যায়। বিকেল ৩টা ১৯ মিনিটে চাঁদনি চক এলাকার সুনেহরি মসজিদের পার্কিংয়ে গাড়িটি প্রবেশ করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ডা. নবি নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং তিনি কোনো সময় গাড়ি থেকে নামেননি।
সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত গাড়িটি সেখানেই ছিল—এর পরেই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। ডা. মুজাম্মিল শাকিল ও ডা. আদিল আহমদ রাদারকে সোমবার সকালে জম্মু ও কাশ্মীর এবং হারিয়ানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক ও অস্ত্র। ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘটনার পরই উমর নবি আতঙ্কিত হয়ে ‘ভুলক্রমে’ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফেলেন।
লখনউয়ের নারী চিকিৎসক ডা. শাহিন সাঈদকেও মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেএম)-এর নারীবিভাগ গঠনে কাজ করছিলেন তিনি।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এটি আত্মঘাতী হামলা নয়, বরং বিস্ফোরক স্থানান্তর বা নিস্তেজ করার চেষ্টা চলাকালে দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ ঘটে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, নবি যে বিস্ফোরক (আইইডি) তৈরি করেছিলেন তা সঠিকভাবে সংযোজন করা হয়নি—ফলে বিস্ফোরণের প্রভাব সীমিত ছিল।
দিল্লি বিস্ফোরণের একদিন পরেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি আদালত ভবনের বাইরে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে কাচেহরি (জেলা আদালত) এলাকায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাও ভারতের এই ঘটনাকে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এক ‘ওয়েক-আপ কল’ বলে মনে করছেন। তাদের মতে দিল্লির বিস্ফোরণের আগুন এখন নিভে গেছে। কিন্তু তার সঙ্গে ফুটে উঠেছে এক ভয়ঙ্কর সত্য যে, ‘জঙ্গিবাদে’র আতঙ্ক এখন ছড়িয়ে পড়ছে পুরো দক্ষিণ এশিয়ায়।