ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের তার প্রস্তাবের বিরোধিতা করলে ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আট মিত্র দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে। এই দেশগুলো হলো—ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য।ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে অঞ্চলটি নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তার এই বক্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। যেসব দেশকে শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছে, তারা একসঙ্গে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যদি শান্তিতে বসবাস করতে চাই এবং যৌথ সমস্যাগুলোতে একসঙ্গে কাজ করতে চাই, তাহলে প্রথমেই একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে পারস্পরিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।’ এখনও স্পষ্ট নয়, নতুন করে প্রস্তাবিত এই শুল্কগুলো যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ট্রাম্প ইতিমধ্যে যে শুল্ক আরোপ করেছেন, তার সঙ্গে কীভাবে প্রভাব ফেলবে।
ইউরোপের পক্ষ থেকে শুল্ক হুমকির জবাব সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেছেন, ট্রাম্প যদি সত্যিই শুল্ক আরোপ করেন, তাহলে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে তাদের ‘অ্যান্টি-কোয়েরশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ (চাপ মোকাবিলার ব্যবস্থা) সক্রিয় করার অনুরোধ জানাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এবারের সম্মেলনের মূল বিষয়—‘আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিশ্বে আমরা কীভাবে সহযোগিতা করতে পারি?’ এই সম্মেলনে ম্যাখোঁ ছাড়াও জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে তার দেশ উদ্বিগ্ন। তিনি জানান, কানাডা আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে—সামরিক সক্ষমতা জোরদার করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘ন্যাটোর ভেতরে একসঙ্গে কাজ করাই আর্কটিক নিরাপদ রাখার সবচেয়ে ভালো উপায়।’
এদিকে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে জানান, তিনি গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, এই বিষয়ে কাজ চলবে এবং দাভোসে এই সপ্তাহের শেষ দিকে ট্রাম্পের সঙ্গে আবার দেখা হওয়ার আশা করছেন। গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ট্রাম্পের হুমকির বিরুদ্ধে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড—উভয় জায়গাতেই জনরোষ এখনো কমেনি। শুল্ক ঘোষণার আগেই শনিবার গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক ও ডেনমার্কের বিভিন্ন শহরে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়।
এই বিক্ষোভের সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল কোপেনহেগেন সফর করে। প্রতিনিধি দলের প্রধান, ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য গঠনমূলক নয়।
গ্রিনল্যান্ডের যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত প্রতিনিধি জানান, সর্বশেষ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গ্রিনল্যান্ডবাসীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চান কি না। তখন মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ এতে সমর্থন জানিয়েছিলেন, আর ৮৫ শতাংশ ছিলেন বিপক্ষে। এদিকে সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিকও গ্রিনল্যান্ড দখলের পক্ষে নন।
রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ১৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার পক্ষে এবং ৪৭ শতাংশ ট্রাম্পের এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন।