ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দুদকের অভ্যন্তরে অত্যন্ত জোরালোভাবে দুর্নীতি বিরাজ করছে। এমন কর্মকর্তাও আছেন যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, যাঁদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান তদন্ত করার কথা, তাঁরা নিয়মিত পে রুলে আছেন-এ রকম কথাও বলা হয়। আমাদের সুপারিশটি এ ক্ষেত্রে খুব সহজ ছিল। যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে এবং আদালতে সোপর্দ করতে হবে। এসবের কিছুই এখন পর্যন্ত হয়নি। শুধু একটা অধ্যাদেশ হয়েছে; যার মাধ্যমে শুধু দুদক আইন-২০০৪-এর সংস্কার হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যারা ক্ষমতায় আছেন এবং যারা ক্ষমতা কাঠামোর কাছাকাছি আছেন তাদেরই মৌলিক দায়িত্ব দুর্নীতি প্রতিরোধ। চারটি উপাদান লাগে দুর্নীতি প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণের জন্য। প্রথমত রাজনৈতিক সদিচ্ছা। দ্বিতীয়ত যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, সর্বনিম্ন থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত পরিচয়-অবস্থান নির্বিশেষে সবাইকে জবাদিহির আওতায় আনতে হবে। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেটা করতে হবে। কোনো প্রকার হয়রানিমূলক নয়, বাস্তবেই যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, তাঁদের জবাবদিহি করতে হবে। তৃতীয়ত শুধু দুর্নীতি দমন কমিশন নিয়ে আমরা আলোচনা করি, এটির অবশ্য মৌলিক দায়িত্ব, পাশাপাশি অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলোকে কার্যকর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। চতুর্থত দেশের প্রতিটি মানুষকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। সাধারণ মানুষকেই বলতে হবে-রাজনৈতিক সদিচ্ছা চাই, দুর্নীতি যারা করে তাদের বিচার চাই, যে প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব তাদের কার্যকরতা চাই, আর আমরা নিজেরাও দুর্নীতিমুক্ত থাকব। এ চারটি উপাদান মিলে কিন্তু দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে আমরা সব সময় দেখে আসছি অর্থ, পেশি আর ধর্ম। জুলাই-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্রমাগতভাবে ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এটা শুধু ধর্মকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং আমাদের বৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে যারা বিকশিত হলো তাদের মধ্যেও ধর্মকে পলিটিক্যাল মাইলেজের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জাতি হিসেবে এটা আমাদের সত্তা, আত্মপরিচয়, স্বাধীনতার মূলমন্ত্র, একাত্তর ও চব্বিশের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও ঝুঁকিপূর্ণ।’