আদালতের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প পাল্টা ঘোষণা দেন—তিনি নতুন করে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ওভাল অফিসে বসেই এই আদেশে সই করা হয়েছে এবং এটি প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। নতুন শুল্ক মঙ্গলবার থেকে চালু হবে।
রায়ের পর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের মনোনীত বিচারকেরাই তার শুল্কনীতির বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় তিনি ‘ভীষণ লজ্জিত’। তার ভাষায়, ওই বিচারকেরা ‘বোকা ও তোষামোদকারী’ এবং তাদের মধ্যে ‘দেশপ্রেমের অভাব’ রয়েছে।
প্রধান বিচারপতি রবার্টস রায়ে উল্লেখ করেন, সংবিধান অনুযায়ী কর ও শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত, প্রেসিডেন্টের নয়। শুল্ক আরোপের মতো অস্বাভাবিক ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন—কিন্তু ট্রাম্প তা দেখাতে পারেননি।
আদালত আরো বলেন, আইইইপিএতে ‘নিয়ন্ত্রণ’ ও ‘আমদানি’ শব্দ থাকলেও এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে সীমাহীন সময়ের জন্য যেকোনো দেশের ওপর যেকোনো হারে শুল্ক বসানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।মামলার শুনানিতে প্রতিবাদকারী অঙ্গরাজ্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসার আইনজীবীরা যুক্তি দেন, যে আইনের আওতায় শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, সেখানে ‘ট্যারিফ’ শব্দটিরই উল্লেখ নেই। তাদের মতে, কংগ্রেস কখনও কর আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের কাছে হস্তান্তর করতে চায়নি। রবার্টস তার মতামতে এই যুক্তির প্রতি সমর্থন জানান।
ট্রাম্প দাবি করেন, এই রায়ে বিদেশি রাষ্ট্রগুলো উচ্ছ্বসিত হয়েছে, যারা বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়ে এসেছে। তবে তারা বেশিদিন আনন্দ করতে পারবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রায়ের পর ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা যায়, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ০.৭ শতাংশ বেড়ে দিন শেষ করে। তবে শুল্ক ফেরত ও ব্যয়মুক্তির যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবে রূপ নেবে কি না—তা এখনও অনিশ্চিত।