ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি নারী নিলুফার ইয়াসমিনকে হত্যার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত এ ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।গত ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে নীলুফার ইয়াসমিন নামে বাংলাদেশি এক নারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন কৃষ্ণাঙ্গ এক ব্যক্তি। অভিযুক্ত ৪০ বছর বয়সী রলবার্ট জোয়াকিমে হাইতির নাগরিক বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা এবং সম্পত্তির ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
নিহত নিলুফার ইয়াসমিন দুই সন্তানের জননী।হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার এ দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল। গতকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নিজের
‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নৃশংস হামলার ভিডিওটি শেয়ার করেন।
নিহত ইয়াসমিনের পরিবারের জন্য দোয়া করার পাশাপাশি ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কঠোর সমালোচনা করেন।তিনি অভিযোগ করেন, বাইডেনের ‘টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস’ নীতির অপব্যবহারের ফলে হাইতির মতো দেশগুলোর অপরাধীরা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালের ওই পোস্টে লিখেছেন, ‘হাইতি থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী ফ্লোরিডার একটি গ্যাস স্টেশনে নিরীহ নারীকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে।’তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ইতিহাসের সবচেয়ে ‘নিকৃষ্ট প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘জো বাইডেন এবং কংগ্রেসের উগ্রপন্থী ডেমোক্র্যাটরা আমাদের দেশে অবৈধ অভিবাসীদের ছেড়ে দিয়েছে।’তিনি আরো বলেন, ‘ওই ব্যক্তিকে আগের প্রশাসনের সময় ‘টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস’ (অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা) দেওয়া হয়েছিল।এই নীতির ব্যাপক অপব্যবহার হয়েছে।’
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, বাইডেন প্রশাসনের অভিবাসননীতির কারণে এমন ব্যক্তিরা দেশে অবস্থান করার সুযোগ পেয়েছে। এই নীতির কারণে জননিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে এবং তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচি বন্ধ করার পরিকল্পনার কথা জানান।তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিচারকের সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেন।ট্রাম্প বলেন, ‘এই একটি হত্যাকাণ্ডই উগ্রপন্থী এই বিচারকদের জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত।তাদের উচিত আমার প্রশাসনের অভিবাসননীতিতে বাধা না দেওয়া।’তিনি আরো বলেন, ‘আমার রিপাবলিকান ভাই-বোনদের এবং সত্যি বলতে সকল বিবেকবান আমেরিকানকে বলছি, কখনোই ভুলবেন না যে জো বাইডেন এবং ডেমোক্র্যাট পার্টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি আবর্জনা ফেলার জায়গায় পরিণত করেছে। এর ফলে সারা বিশ্ব থেকে লাখ লাখ অপরাধী, উন্মাদ এবং মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিরা আমাদের উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে সম্পূর্ণ যাচাই-বাছাই ও বাধা ছাড়াই এ দেশে প্রবেশ করতে পারছে।’
ট্রাম্প বলেন, ‘তৃতীয় বিশ্বের মানুষকে ব্যাপকভাবে দেশে প্রবেশ করতে দিলে দেশ নিজেই তৃতীয় বিশ্বের মতো হয়ে যায়।’তার দাবি, ডেমোক্র্যাটদের চার বছরের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার প্রশাসন নির্বাসন কার্যক্রমের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ডেমোক্র্যাটরা যদি আবার ক্ষমতায় আসে, তাহলে তারা সীমান্ত আবার খুলে দিতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে অপরাধীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল বানিয়ে ফেলতে পারে।শেষে তিনি লিখেছেন, ‘দয়া করে এই নিরীহ নারীর পরিবারের জন্য প্রার্থনা করুন। আমরা নিশ্চিত করব, এই মামলার যেন দ্রুত এবং কঠোর বিচার হয়! আমি আপনাদের এই ভিডিও দেখা থেকে বিরত থাকতে বলছি। কারণ এটি অত্যন্ত ভয়াবহ। আমি অনুভব করেছি এটা প্রকাশ করা আমার দায়িত্ব, যাতে মানুষ দেখতে পায়, ডেমোক্র্যাটরা কী রক্ষা করছে এবং আমাদের দেশে কী আনতে চাইছে।’
তিনি আবারও দর্শকদের নিজ দায়িত্বে দেখার পরামর্শ দেন এবং শিশুদের নজরে যেন এই ভিডিও না পড়ে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..