শুক্রবার (১ মে) মহান মে দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশটি হয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে শ্রমিকদের ৭২ জন শহীদ হয়েছেন। তাদের স্মরণ করছি।’তিনি অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারের সময় স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাত ধ্বংস করার মাধ্যমে শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে।
এ ছাড়া তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান যেমন নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিভাবানদের তুলে আনতেন, আমরাও সে কাজ শুরু করছি।’খাল খনন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘খাল খনন শুরু করেছি। এটি কৃষক ভাইদের সেচ, মানুষের পানির চাহিদা পূরণ করবে। সময় এসেছে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে পারলে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।
তিনি জানান, যখনই বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পক্ষে যাত্রা শুরু করেছিল, ধীরে ধীরে দেশ ‘ইমার্জিং টাইগার’ খ্যাতি পেয়েছিল।অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতের মতো ষড়যন্ত্র চলছে। ১২ তারিখ যখন তারা সফল হয়নি, তখন তারা নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে। তারা চেষ্টা করছে বাংলাদেশকে বন্ধুহীন করতে। কিন্তু বিশ্ব দরবার দেখছে, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত। তারা গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে কথা বলছে, বিনিয়োগ করতে চায়। আমাদের বিশ্ব দরবারের সুযোগ গ্রহণ করতে হবে।’
সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। সবাইকে সজাগ হতে হবে। জেগে উঠতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিকদের খাতায় নিজের নাম এবং অন্য মন্ত্রীদের নাম লেখাতে চাই।’ পাশাপাশি প্রত্যেককে দেশ গড়ার শ্রমিক হিসেবে নাম লেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
বিগত আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, নয়াপল্টনকেন্দ্রিক যেসব কর্মসূচি হয়েছে, সেসব কর্মসূচিতে বিগত স্বৈরাচার সরকারের হামলা হয়েছে। এ সময় নয়াপল্টনের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী প্রমুখ।